মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের আধ্যাত্মিক শরাফতের প্রতিষ্ঠাতা ও মাইজভাণ্ডারী তরিকার মহান প্রবর্তক গাউছুল আজম হযরত মাওলানা শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর দ্বি-শত বেলাদত (জন্ম) বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার নগরীর একটি সম্মেলন কক্ষে শান-এ-গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী ফোরামের সদস্যবৃন্দ, আওলাদে খোলাফায়ে গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, সাজ্জাদানশীন শাহজাদা সৈয়দ হোসেইন রাইফ নুরুল ইসলাম (রুবাব) মাইজভাণ্ডারী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন আঞ্জুমান কেন্দ্রীয় পরিষদের সহ-সভাপতি সাজ্জাদানশীন শাহজাদা ডা. সৈয়দ হোসেইন সাইফ নিহাদুল ইসলাম মাইজভাণ্ডারী।
সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম কিডনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি ডা. মঈনুল ইসলাম মাহমুদ, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন, ইসলামী লেখক এম. এ. গনি, মাইজভাণ্ডারী গবেষক ড. সেলিম জাহাঙ্গীর, সাবেক সিভিল সার্জন ডা. সরফরাজ খান চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী মোহাম্মদ মেজবাউল আলমসহ দেশবরেণ্য আলেম, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও অনুসারীবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, গাউছুলআজম মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর শিক্ষা ও দর্শন কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। শরিয়ত ও তরিকতের সমন্বিত চর্চার মাধ্যমে যুগোপযোগী ও জনকল্যাণমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করে মাইজভাণ্ডারী দর্শনকে বিশ্বের খোদানুরাগী মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে দ্বি-শত বেলাদত বার্ষিকী উপলক্ষে ব্যাপক সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে— খোলাফায়ে গাউছুলআজম মাইজভাণ্ডারী (ক.)-গণের খেদমতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ধারাবাহিক ‘জেয়ারত কাফেলা’ আয়োজন, মাইজভাণ্ডারী ঘরানার আওলাদ, আলেম ও অনুসারীদের জন্য ‘তাসাউফ কোর্স’ চালু, ২০০ জন দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, ২০০ জন কিডনি রোগীর বিনামূল্যে ডায়ালাইসিস, ২০০ দরিদ্র রোগীর চোখের ছানি অপারেশন, ২০০ দরিদ্র পরিবারের শিশুদের বিনামূল্যে খতনা কার্যক্রম বাস্তবায়ন।
এছাড়াও সমাজের শিক্ষিত শ্রেণির কাছে মাইজভাণ্ডারী দর্শনের প্রকৃত স্বরূপ তুলে ধরতে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার, ২০০ নারী-পুরুষকে কারিগরি ও জীবনমুখী প্রশিক্ষণ, দেশবরেণ্য শিল্পীদের অংশগ্রহণে মাইজভাণ্ডারী গান ও কালামের আসর এবং সুফি দর্শনের আলোকে পরিবার ও সমাজ গঠনে নারীর ভূমিকা তুলে ধরতে ‘নারী সমাবেশ’ আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভা শেষে আয়োজকরা জানান, গাউছুলআজম মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই দ্বি-শত বেলাদত বার্ষিকীকে অর্থবহ করে তোলা হবে।



