কোরবানির পশুর চামড়া কিনে বিপাকে পড়েছেন ফটিকছড়ি উপজেলার শত শত মৌসুমি ও প্রান্তিক ব্যবসায়ী। ট্যানারি মালিক ও বড় পাইকারদের দেখা না মেলায় বাজারে বাজারে স্তূপ করে রাখা হয়েছে চামড়া। এতে লোকসানের আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা সদর বিবিরহাট বাজারের বিভিন্ন সড়ক ও দোকানের সামনে সারি সারি গরুর চামড়া পড়ে আছে। সময়মতো বিক্রি না হওয়ায় অনেক চামড়া থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানান, গ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতি পিস গরুর চামড়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দরে কিনে এনে বাজারে মজুত করেছেন তাঁরা। তবে এখনো প্রত্যাশিত ক্রেতার দেখা মিলছে না।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকার প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিলেও সেই দামের প্রভাব গ্রাম পর্যায়ে পৌঁছেনি। ফলে স্থানীয়ভাবে কম দামে চামড়া কিনতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। এখন পাইকারি ক্রেতা না আসায় চামড়া বিক্রি নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

মৌসুমি ব্যবসায়ী মো. বেলাল বলেন, “গ্রাম থেকে অনেক কষ্ট করে চামড়া সংগ্রহ করেছি। কিন্তু বাজারে এনে দেখি কোনো বড় ব্যবসায়ী নেই। এখন কম দামে বিক্রি করলে বড় লোকসান হবে।”
আরেক ব্যবসায়ী মো. আজম বলেন, “সরকার দাম ঠিক করে দিলেও মাঠপর্যায়ে কেউ সেই দাম মানছে না। আমরা চামড়া কিনে এখন বিপদে পড়েছি।”
আবুল কালাম নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, “চামড়া বেশি দিন রাখা সম্ভব না। দ্রুত বিক্রি করতে না পারলে সব নষ্ট হয়ে যাবে।”

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দ্রুত ট্যানারি মালিক ও বড় পাইকারদের বাজারে এসে চামড়া সংগ্রহের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারিভাবে কার্যকর নজরদারি বাড়ানোরও আহ্বান জানান তাঁরা।



