ফটিকছড়ির কর্ণফুলী চা- বাগানে শ্রমিক আন্দোলন

ভূমির অধিকার দাও, মজুরী বাড়াও

নিজস্ব প্রতিবেদক

Oplus_131072

দৈনিক মজুরি ১৮৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকস্বার্থবিরোধী গেজেট ও ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বাতিল, বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের (বি-৭৭) স্বাধীন নির্বাচন এবং চা-শ্রমিকদের ভূমির আইনগত মালিকানা নিশ্চিত করার দাবিতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে কর্ণফুলী চা-বাগানে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন চা-শ্রমিকেরা।

সোমবার(১০ আগষ্ট) সকালে সিটি গ্রুপের মালিকানাধীন কর্ণফুলী চা-বাগানে প্রায় দুই ঘণ্টা কাজ বন্ধ রেখে এ কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিকেরা।

বাগানের পঞ্চায়েত কমিটি ও চা-শ্রমিকদের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে শ্রমিকেরা বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে বাগান এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

চা-শ্রমিক চট্টগ্রাম ভ্যালির সভাপতি নিরঞ্জন নাথ মন্টুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন কর্ণফুলী চা-বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির নেতৃবৃন্দ ও শ্রমিকেরা। কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন কর্ণফুলী চা-বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি বিপ্লব কুমার দে।

১৮৭ টাকার মজুরিতে কতটা চলে একটি পরিবার?

মানববন্ধনে শ্রমিকদের বক্তব্যে উঠে আসে দীর্ঘদিনের জীবনযাত্রার সংকটের চিত্র। শ্রমিকদের অভিযোগ, বর্তমান বাজারদর, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, সন্তানদের পড়াশোনা ও পরিবারের চিকিৎসাসহ মৌলিক ব্যয় মেটাতে দৈনিক ১৮৭ টাকা মজুরি কার্যত অপ্রতুল।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বর্তমান বাজারমূল্যে ১৮৭ টাকা মজুরি দিয়ে পরিবারের ন্যূনতম জীবনযাপনও কঠিন হয়ে পড়েছে। সন্তানদের পড়ালেখার ব্যয় বহন করা তো আরও কঠিন। তাঁদের দাবি, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবিলম্বে দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

চা-শ্রমিক নিরু বালা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। কিন্তু সে তুলনায় চা-শ্রমিকদের মজুরি বাড়েনি। ফলে পরিবার নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার দাবি জানান তিনি।

শ্রমিক মনিশা ও অন্যান্য শ্রমিকরাও মজুরি বৃদ্ধির দাবির পাশাপাশি অভিযোগ করে বলেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম চা-বাগানে বসবাস ও শ্রম দিলেও অধিকাংশ শ্রমিকের বসতভিটার জমির ওপর আইনগত মালিকানা নেই।

চা শ্রমিক চট্টগ্রাম ভ্যালির সভাপতি নিরঞ্জন নাথ মন্টু বলেন, প্রায় দুই শতাব্দী ধরে চা-বাগানকেন্দ্রিক জনপদে বসবাস করেও অধিকাংশ শ্রমিক নিজেদের বসতভিটার জমির মালিকানা থেকে বঞ্চিত। শুধু মজুরি বাড়ালেই চা-শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের সংকটের সমাধান হবে না; তাঁদের ভূমির অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে।

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?