১২ ইউনিয়ন ও ২ পৌরসভা নিয়ে ফটিকছড়ির নতুন সীমানা নির্ধারণ

ফপ্র সারথি

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা গঠনের পর অবশিষ্ট ফটিকছড়ি উপজেলার সীমানা ও অন্তর্ভুক্ত এলাকার তালিকা সরকারি গেজেটে স্পষ্ট করা হয়েছে। নতুন সীমানা অনুযায়ী বর্তমান ফটিকছড়ি উপজেলায় থাকছে ১২টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা। এসব এলাকার ৫২টি মৌজার নাম ও জে.এল. নম্বরও গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় গত ১৭ আগস্ট প্রকাশিত স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ফটিকছড়ি উপজেলা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সরকারের আগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা গঠন করা হয়েছে। এ তথ্য সরকারি প্রজ্ঞাপন ও একাধিক সংবাদমাধ্যমেও নিশ্চিত হয়েছে।

নতুন গেজেট অনুযায়ী, মূল ফটিকছড়ি উপজেলার সঙ্গে থাকছে ১নং পাইন্দং, ২নং কাঞ্চননগর, ৩নং সুন্দরপুর, ৪নং লেলাং, ৫নং নানুপুর, ৬নং রোসাংগিরি, ৭নং বখতপুর, ৮নং জাফতনগর, ৯নং ধর্মপুর, ১০নং সমিতিরহাট, ১১নং আবদুল্লাপুর ও ১২নং খিরাম ইউনিয়ন। পাশাপাশি ফটিকছড়ি পৌরসভা ও নাজিরহাট পৌরসভা এ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত থাকছে।

গেজেটের তফসিলে এসব ইউনিয়ন ও পৌরসভার অধীন মোট ৫২টি মৌজার নাম ও জে.এল. নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা গঠনের পর অবশিষ্ট ফটিকছড়ি উপজেলার প্রশাসনিক সীমানা ও ভূখণ্ডের সরকারি তালিকা নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

তফসিল অনুযায়ী, পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং, দক্ষিণ পাইন্দং, হাইদচকিয়া, ডুলু, শ্বেতকুয়া, ফকিরাচঙ্গ ও রঙ্গছড়িসহ একাধিক মৌজা-  কাঞ্চননগর, ফটিকছড়ি পৌরসভা, সুন্দরপুর, লেলাং, নানুপুর, রোসাংগিরি, বখতপুর, জাফতনগর, ধর্মপুর, সমিতিরহাট, আবদুল্লাপুর ও খিরাম ইউনিয়নের বিভিন্ন মৌজাও বর্তমান ফটিকছড়ি উপজেলার আওতায় রাখা হয়েছে।

এদিকে, নতুন উপজেলা গঠনের পর ফটিকছড়ির প্রশাসনিক কাঠামো কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হলো। একদিকে ছয় ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা, অন্যদিকে ১২ ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা নিয়ে অবশিষ্ট ‘ফটিকছড়ি’ উপজেলা। নতুন ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তর ভূজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভূজপুর মৌজায় স্থাপনের বিষয়টিও সরকারি গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছিল।

তবে নতুন উপজেলা গঠনের পর সুয়াবিল ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্তি এবং পশ্চিম ভূজপুর মৌজায় সদর দপ্তর স্থাপনের বিষয় নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ দুটি বিষয়ে ১৯ আগস্ট হাইকোর্ট স্থিতাবস্থা জারি করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে।

সরকারি গেজেটে অবশিষ্ট ফটিকছড়ি উপজেলার সীমানা ও মৌজার তালিকা প্রকাশের ফলে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের পর উপজেলার কোন এলাকা কোন প্রশাসনিক ইউনিটের অধীনে থাকবে, সে বিষয়ে সরকারি নথিতে একটি সুস্পষ্ট কাঠামো পাওয়া গেল।

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?