ফটিকছড়িতে একাধিক বাসা থেকে মুরগিসহ অন্যান্য আসবাবপত্র চুরির অভিযোগে ছিঁচকে চোর চক্রের চার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এসময় স্থানীয় জনতা চোর চক্রের ওই চার সদস্যকে পিটুনি দিয়ে থানা-পুলিশে দিয়েছেন। বৃস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোর-সকালে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের খেজুরতলা এমকে ইটভাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ আহত চোর চক্রের চার সদস্যকে নাজিরহাটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জরুরি বিভাগে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। দুপুরের দিকে ওই চারজনকে চট্টগ্রামের বিজ্ঞ আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তাসলিমা নাসরিন বলেন, ‘থানার একদল পুলিশ আহত চারজনকে জরুরি বিভাগে এনেছিলেন। তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে তারা শঙ্কামুক্ত।’
চিকিৎসা নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার সুন্দরপুরের বাসিন্দা আহম্মদ রশিদের ছেলে আকবর আলী (৩৩), উত্তর পাইন্দং গ্রামের বাসিন্দা মো. আলমগীরের ছেলে মো. মোরশেদ (৩০), একই গ্রামের বাসিন্দা আবুল বাশারের ছেলে মো. সাইমন (২৪ এবং হাইদচকিয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মো. রায়হান (৩৩)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোরসকালে ওই ইটভাটার কাছে একটি বাসার কাছে ঘোরাঘুরি করছিলেন তারা চারজন। একইসময়ে স্থানীয় একটি পরিবারের একাধিক মুরগি চুরির ঘটনা ঘটে। ওই চারজনের সন্ধেহজনক গতিবিধি বুঝতে পেরে স্থানীয়রা মিলে লোকজনকে একত্র করে ওই চারজনকে ধরে ফেলেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই চক্রের ছিঁচকে চোরের দল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মানুষকে অতিষ্ঠ করে রেখেছে। তাঁদের চক্রের হাতে এলাকায় চুরি-চামারি, চিনতাই ও ছিঁচকে চুরি এতই বেড়েছে যে বলাই বাহুল্য। তাৎক্ষনিক কেউ কেউ তাদের চিহ্নিত করেন এবং ক্ষতির মুখে পড়লেও পুলিশকে এ পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দেননি বলে জানান। এসময় উত্তেজিত লোকজন চোর চক্রের আটক চার সদস্যকে পিটুনি দেন এবং রশি দিয়ে গাছের সাথে দীর্ঘক্ষণ বেঁধে রাখেন। খবর পেয়ে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ওই চারজনকে উদ্ধার করে।
স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘তারা এমন কোনো অপকর্ম নেই, যা করেন না। তাদের জ্বালায় এলাকার লোকজন অতিষ্ঠ। তাদের অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও কোনো কাজে আসেনি। আশা করি এবার এলাকার মানুষ স্বস্থিতে থাকবে, প্রাণে বাঁচবে।’
স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয়দের ঘরের জানালা-দরজা ভেঙ্গে নিয়ে বা বাসায় ঢোকে চুরির ঘটনায় আমরা নিয়মিত হতবাক। তাদের মাধ্যমে গরু, হাস-মুরগি, টিউবওয়েলের নল, মোটর ও বিদ্যুতিক ট্রান্সমিটার পর্যন্ত চুরি হচ্ছে। ইদানীং প্রতিনিয়ত চুরির-চামারির ঘটনায় তারা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িত।’
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম খান বলেন, ‘ছিঁচকে চুরির অভিযোগে চারজনকে আটক করে স্থানীয় জনতা উত্তম-মাধ্যম দিয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে তাদের আটক করে থানায় এনে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।’



