১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৪ বছরে ৩ বার মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ হয়নি স্কুল ভবনের নির্মাণ

ওবাইদুল আকবর রুবেল

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ঠিকাদারের গাফিলতিতে চার বছরেও শেষ হয়নি পশ্চিম হাইদচকিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজ। পুরাতন ভবনের জরাজীর্ণ কক্ষে পাঠদান কার্যক্রম চালাতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অর্ধেক কাজ শেষ করেই ভবন ফেলে রেখে উধাও হয়ে গেছে।

রবিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বিদ্যালয়টির জরাজীর্ণ পুরাতন ভবনটি নির্মাণ করা হয় ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে। পরে সেটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এতে বিদ্যালয়ের বারান্দার পিলার ও দেওয়ালের পলেস্তারা খসে রড বের হয়ে পড়েছে। শ্রেণিকক্ষের দেয়ালেও ফাটল। এরই মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে শিশু শিক্ষার্থীরা। এতে বিদ্যালয়ে সন্তানদের পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকেন অভিভাবকেরা। এর ফলে অনেক অভিভাবক ছেলে-মেয়েদের অন্য স্কুল ও মাদ্রাসায় ভর্তি করাচ্ছেন। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ঠিক ২০০ গজ দুরে নির্মাণাধীন ভবনের কাজ ফেলে রেখে চলে গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পড়ে আছে, ভবন নির্মাণের নানা যন্ত্রাংশ। মরিচা ধরেছে পড়ে থাকা লোহাগুলোতেও স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দিয়েও সুফল মিলছে না। তারা শীঘ্রই বিদ্যালয়ের ভবনটি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন চান। এছাড়াও ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত নির্মাণাধীন নতুন ভবনে হস্তান্তর হতে চান শিক্ষকরা।

জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থ বছরে প্রায় ১ কোটি আট লাখ টাকা ব্যয়ে মেসার্স মনির আহমদ কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিদ্যালয়ের দু’ তলা ভবনটি নির্মাণের কাজ হাতে পান। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ভবন নির্মাণে অর্ধেক কাজ রেখে উধাও হয়ে যায়। কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে চারবার মেয়াদ বাাড়িয়েও ঠিকাদারের গাফলতির কারণে যথাসময়ে কাজ শেষ হয়নি।

বিদ্যালয়ের বিবি মরিয়াম, উম্মে আয়মন, জিন্নাত আক্তারসহ কয়েকজন জানান, ‘আমদের ক্লাস করতে অনেক ভয় লাগে তাও করি। বৃষ্টির সময় তো ক্লাসও করতে পারিনা।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) নাহিদা আক্তার শিল্পী বলেন, ‘শুরু থেকেই ঠিকাদার বিরতি দিয়ে কাজ করেছে। ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে ভবন নির্মাণকাজে দেরি হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ পুরানো ভবনে পাঠদান করাচ্ছি আমরা। শিক্ষার্থীদের কষ্ট দেখে একাধিকবার নির্মাণকাজ শেষ করার অনুরোধ করেছি কিন্তু তাতেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা অফিসার, উপজেলা প্রকৌশলীসহ ইউএনও মহোদয়কে একাধিকবার জানিয়েছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আসাদুজ্জামান টিটু মুঠোফোনে বলেন, ‘কাজটি চার বছর আগের। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজটি শেষ করা হবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সরওয়ার হোসেন স্বপ্নন বলেন, ‘ভবনটির কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য আমি কয়েকবার উপজেলা সমন্বয় সভায় বলেছি। ঠিকাদারকেও অনেকবার বলেছি। কয়েকবার মেয়াদবাাড়িয়েও কাজটি ঠিকাদার কেন শেষ করেনি জানিনা।’

স্থানীয় প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপ- সহকারী প্রকৌশলী আব্দুস সালাম বলেন, ‘কাজটি দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দিয়েছি। ঠিকাদারের গাফলতির কারণে তা শেষ করা যায়নি। আমরা ঠিকাদারের কাজটি বাতিল করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করছি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি জানা ছিল না। উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে কথা বলে কাজটি দ্রুত শেষ করার জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে।’

 

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?