১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চিরগৌরবে সমুজ্জ্বল মহান বিজয় দিবস আজ

ফপ্র সারথি

চিরগৌরবে সমুজ্জ্বল মহান বিজয় দিবস আজ

এই দেশের সব মানুষ চিরকাল গর্ববোধ করবে যে দিনটির জন্য, সেটি আজকের এই দিন ১৬ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে এক বীরত্বগাথার মধ্যদিয়ে পৃথিবীর মানচিত্রে যুক্ত হয়েছিল একটি নতুন নাম বাংলাদেশ। রক্ত, ত্যাগ আর অদম্য সাহসের বিনিময়ে জন্ম নিয়েছিল একটি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র। আজ (১৬ ডিসেম্বর) সেই মহান বিজয় দিবস। যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন হচ্ছে দিবসটি।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, নিরস্ত্র এই জনপদের মানুষের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ট্যাংক-কামান আর স্বয়ংক্রিয় মারণাস্ত্র নিয়ে নিষ্ঠুর গণহত্যার উন্মাদনায় মেতে উঠেছিল। সেই বিভীষিকাময় রাত থেকেই শুরু হয় প্রতিরোধের মহাকাব্য। ঠিক সেই মুহুর্তেই জেগে ওঠে জাতি। স্বাধীনতার তেষ্টায় ডাক আসে মুক্তিযুদ্ধের। ডাক শুনে দেশের বীর সন্তানেরা ছুটে গিয়েছিলেন যুদ্ধের ময়দানে। জীবনের মায়া তাদের কাছে ছিল তুচ্ছ, মৃত্যু ভয় ছিল নিষ্প্রভ। তাদের ছিল না আধুনিক অস্ত্র, ছিল না নিয়মিত যুদ্ধের প্রশিক্ষণ; কিন্তু ছিল অটল বিশ্বাস, ছিল মুক্তির আকাঙ্ক্ষা, ছিল জ্বলে ওঠা অদম্য সাহস। যার কাছে যা ছিল- লাঠি, বন্দুক, কাঁচা সাহস কিংবা বুকভরা স্বপ্ন নিয়েই তারা দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন শত্রুর মুখোমুখি, মরণপণ লড়াইয়ে।

দীর্ঘ নয় মাস ধরে এ দেশের সব ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার মানুষ একসঙ্গে লড়েছিলেন পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে; একটি অসম যুদ্ধে। সেই সংগ্রামের পথ রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগে, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানিতে, আর অগণিত ধ্বংসস্ত‚পে। তবু পরাজয় মানেনি এই জাতি। মুক্তিযোদ্ধারা ছিনিয়ে এনেছিলেন চুড়ান্ত বিজয়, ভেঙে দিয়েছিলেন পরাধীনতার শৃঙ্খল। ডিসেম্বরের কুয়াশামাখা বাংলার আকাশে সেদিন উদিত হয়েছিল স্বাধীনতার স‚র্য। লাল-সবুজের পতাকা উড্ডীন হয়েছিল বিজয়ের বাতাসে। অগণিত কণ্ঠে অনুরণিত হয়েছিল ভালোবাসার চিরন্তন সুর—‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’। তাই আজকের দিনটি যেমন চিরগৌরব আর আনন্দের, তেমনি স্বজনহারানোর গভীর বেদনায়ও নীল হয়ে আছে।
আজ এই বিজয়ের দিনে জাতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে সেইসব বীর সন্তানদের, যাদের আত্মত্যাগে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ ভরে উঠবে অগণিত মানুষের শ্রদ্ধার ফুলে; নীরব অঙ্গীকারে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে।

পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ এবং বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার মুহুর্তকে স্মরণ করে বিজয় দিবস উদ্‌যাপন শুরু হয়। বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং এরপর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউন‚স পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এছাড়াও, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি ক‚টনীতিকরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, সর্বস্তরের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এ উপলক্ষে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হয়েছে।

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?