১৯২০ সালের সাবেক মহকুমা শহর রামগড়। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশায় রামগড় স্থলবন্দর নির্মাণে এতদ্বাঞ্চলের লাখো মানুষ ভাগ্যবদলের আশা করছেন। পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মহামনি এলাকায় ফেনী নদীর ওপর বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু ইতিপূর্বে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন করেছেন। ফলে রামগড় স্থলবন্দরের অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ এগিয়ে যাওয়ায় পার্বত্যাঞ্চলের লাখো মানুষের ভাগ্যবদলসহ আর্থিক উন্নতির দ্বার খুলে যাবে; এমন আশার আলো দেখছেন তারা।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত এক যুগ ধরে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ অতুলনীয়ভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। রামগড় স্থলবন্দর তারই অংশ এবং বাংলাদেশ ও ভারত মৈত্রীবন্ধন সেতুটি পুরোদমে চালু হলে স্থলবন্দটি দু’দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক, উচ্চ শিক্ষা ও পর্যটনসহ সুসম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, স্থলবন্দরের কাজ এগিয়ে যাওয়ায় এখানকার মানুষ অর্থনীতিতে অবদান রাখাসহ আর্থিক উন্নতির দ্বার খুলে যাবে। ব্যবসা-বাণিজ্য, উচ্চশিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দুই দেশের মানুষ নানাভাবে উপকৃত হবে।

সংশিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে স্থলবন্দরকে ঘিরে ১০ একর জায়গায় বন্দর টার্মিনাল, সড়কপথ, গুদামঘর, চেকপোস্ট, কাস্টমস ও বিজিবি’র জন্য জমি অধিগ্রহনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। রামগড়-হেঁয়াকো-বারৈয়ারহাট সড়কে ১৬টি সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। প্রধান সড়ক প্রশস্তকরণসহ ৭ প্র্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে যাচ্ছে। এতে প্রকল্প ব্যায় ধরা হয় ৩ হাজার ৪৬১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। তার মধ্যে ২ হাজার ৬১৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা সরকারের, বাকি ৫৮১ কোটি ২০ লাখ টাকা বিদেশি ঋণ এবং ২৬০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বিশ্ব ব্যাংকের।
রামগড় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাফায়াত মোর্শেদ ভুইয়া বলেন, ‘বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষ এবং ভারতের ত্রিপুরাসহ সাতটি রাজ্যের বাসিন্দারা ভ্রমনের সুযোগ এবং দুদেশের কানেকটিভিটি বৃদ্ধি পাবে। দেশের সার্বিক উন্নয়নসহ সম্প্রীতির বন্ধন আরোও সুদৃঢ় হবে এবং বাণিজ্যের অভাবনীয় প্রসার ঘটবে।’




