২৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিশেহারা পরিবার

এক ঝড়ে নিঃস্ব দাঁতমারার শারীরিক প্রতিবন্ধী রুবেল

কামরুল হাসান

ফটিকছড়ির দাঁতমারা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিচিন্তা গ্রামের এক নিভৃত কোণে জীবন কাটে শারীরিক প্রতিবন্ধী মুহাম্মদ রুবেলের। আম্বর আলীর তিন ছেলের মধ্যে তিনি সবার ছোট হলেও জীবনের পথে তার পথচলাটা একেবারেই আলাদা। পরিবারের সবার সঙ্গে একই ছাদের নিচে না থেকে স্ত্রী ও দুই কন্যাকে নিয়ে তিনি থাকেন আলাদা একটি টিনশেড ঘরে।


জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধকতা তাকে আটকে রাখতে পারেনি। বরং জীবনযুদ্ধের প্রতিদিনেই তিনি খুঁজে নিয়েছেন বেঁচে থাকার নতুন মানে। ভোর হলেই বাবার চায়ের দোকানে হাজির হন তিনি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সেখানেই কাজ করেন সহকারী হিসেবে। তারপর ক্লান্ত শরীর নিয়েও থেমে থাকেন না। প্রায় দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে সন্ধ্যায় ফিরে যান নিজের ছোট্ট ঠিকানায়—যেখানে অপেক্ষা করে তার সংসার, তার স্ত্রী আর দুই কন্যা।


রাবার গাছঘেরা নির্জন পরিবেশে টিনশেডের তিন কক্ষের সেই ঘরই ছিল তার একমাত্র আশ্রয়, একমাত্র ভরসা। সামান্য আয়, সীমিত সামর্থ্য—সবকিছু মিলিয়ে সেই ঘরেই তিনি গড়ে তুলেছিলেন ছোট্ট এক সুখের সংসারের স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন হঠাৎ করেই এলোমেলো হয়ে যায় প্রকৃতির এক ভয়াল রূপে।


গত মঙ্গলবারের কালবৈশাখী ঝড় যেন তার জীবনের ওপরই আঘাত হানে। দমকা হাওয়ার তাণ্ডবে মুহূর্তেই ভেঙে চুরমার হয়ে যায় টিনের ঘরটি। শুধু ঘরই নয়, পাশের বিশাল একটি রাবার গাছও উপড়ে পড়ে আছড়ে পড়ে তার বসতঘরের ওপর। মুহূর্তের মধ্যে ধূলিসাৎ হয়ে যায় তার একমাত্র আশ্রয়। ভেঙে যায় তার বহু কষ্টে গড়ে তোলা ছোট্ট সংসারের স্বপ্নও।


এখন মুহাম্মদ রুবেল দাঁড়িয়ে আছেন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে কোথায় যাবেন, কীভাবে আবার মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরি করবেন—এই প্রশ্নই তাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করে ফিরছে। দিশেহারা এই জীবনে তিনি এখন শুধু একটি নিরাপদ আশ্রয়ের অপেক্ষায়, যেখানে তিনি আবার নতুন করে শুরু করতে পারবেন তার পরিবারকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম।


সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?