২৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামগড়ে মোবাইল কোর্টের অভিযানে হামলা-গুলি, ইউএনও-ওসিসহ আহত ১৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

রামগড়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের সময় স্থানীয় প্রশাসনের মোবাইল কোর্টের অভিযান চলাকালে গ্রামবাসী ও প্রশাসনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ১০ রাউন্ড গুলি ছুড়ে আনসার ও পুলিশ। এ ঘটনায় পার্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর ২ টার দিকে রামগড়ের পূর্ব বলিপাড়া গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম ও থানার ওসিসহ উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছেন।

আহতরা হলেন, রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম, রামগড় থানার ওসি মোহাম্মদ নাজির আলম, সহকারি প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল ওহাব, আনসার সদস্য নুর মোহাম্মদ, আনসার সদস্য মো. সালাউদ্দিন, আনসার সদস্য খোরশেদ আলম, আনসার সদস্য নুর আহাম্মদ, ইউএনওর গাড়ি চালক কামাল হোসেন, অফিস সহকারি জয়নাল আবেদীন, ইউএনও অফিসের পিয়ন মো: হারুন, পৌরকর্মী শিহাব ও গ্রামবাসীর মধ্যে মো. আজাদ হোসেন, সুমন ত্রিপুরা, নূর হোসেন ও আবুল হাসান।

জানা যায়, বেলা সাড়ে ১২ টার সময় রামগড় ইউনিয়নের পূর্ব বলিপাড়ার গ্রামে প্রায় দুই কিলো মিটার এলাকাজুড়ে অন্তত ১০ টি স্থানে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের গোপন সংবাদের ভিক্তিতে অভিযানে যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত। দীর্ঘ ২ ঘন্টাব্যাপি অভিযানে দুপুর ২টার সময় সেচ পাম্প ও সরবরাহ পাইপ কেটে দিয়ে বালু পরিমাপ করতে গেলে স্থানীয় নারী-পুরুষ মিলে ভ্রাম্যমান আদালতের ওপর ইট পাটকেল ছুঁড়ে হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনসার ও পুলিশ থেকে ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোঁড়া হলে ৪ গ্রামবাসী আহত হয়।

আহত গ্রামবাসী আজাদ ও নুর হোসেন জানান, প্রশাসন বালু মহালে অভিযানে গিয়ে উস্কানীমুলকভাবে পাশে রাখা কৃষকের সেচ পাম্প ও পাইপ ভাংচুর ও কেটে দিলে গ্রামবাসি বাঁধা দেয় এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে আমাদের উপর গুলি বর্ষণ করে আনসার ও পুলিশ। এ ঘটনায় আমরা চার কৃষক গুলিবিদ্ধ হয়েছি।

রামগড় থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নাজির আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিক্তিতে অবৈধ বালু মহালে অভিযানে গেলে স্থানীয়দের সাথে প্রশাসনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এতে আত্মরক্ষার্থে প্রথমে আনসারদের পক্ষ থেকে ৫ রাউন্ড ও পরে পুলিশের পক্ষে ৫ রাউন্ড সটগানের ফাঁকা রাবার বুলেট ছোড়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কাজী শামীম জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে এলাকার ফসলি জমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বালু উত্তোলনের ফলে বিভিন্ন স্থানে ৩০ থেকে ৪০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের অভিযানে গেলে পরিকল্পিত ভাবে ১০০ থেকে ১৫০ জন সম্মিলিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে মোবাইল কোর্টের বহরে হামলা চালায়। এতে তিনি নিজে সহ ১১ জন আহত হন বলে জানান।

ইউএনও জানান, হামলায় তার নিজের পায়ে ইট পড়ে তিনিও আহত হয়েছেন এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলন ও হামলার ঘটনায় আইনী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?