২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফটিকছড়ির সমিতিরহাট

রাস্তা অবরুদ্ধ, অসুস্থ মা ও সন্তান নিয়ে বিপাকে প্রবাসীর স্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফটিকছড়ি উপজেলার সমিতিরহাট এলাকায় মৌরশি সম্পত্তির বিরোধকে কেন্দ্র করে তিন মাস ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় জীবনযাপন করছে এক প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা। চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের বৃদ্ধ সদস্য চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, আর তিন শিশু নিয়মিত স্কুলে যেতে পারছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সমিতিরহাট ইউনিয়নের ছাদেক নগর গ্রামের মোয়াজ্জেম কাজী বাড়ির পেছনের অংশে বসবাস করেন প্রবাসী কাজী মো. এমরান উদ্দিনের পরিবার। পারিবারিক ভিটা ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে একই বাড়ির অপর পক্ষ চলাচলের উঠানে পাকা ঘর নির্মাণ করে তাদের পথ বন্ধ করে দেয়।

বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে বের হতে রান্নাঘরের পেছনের অংশ ও একটি টয়লেটের পাশ ঘেঁষে প্রতিবেশীর ঘরের ভেতর দিয়ে চলাচল করছেন। রাতের বেলায় তারা কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকেন।

স্থানীয় বাসিন্দা শেখ রুহুল আমিন ভূঁইয়া জানান, মরহুম বাদশা মিয়ার সাত ছেলের মধ্যে বাড়ির পেছনের অংশে প্রথম ছেলে মরহুম শামশুল আলম ও সপ্তম ছেলে নজরুল ইসলাম বসবাস করতেন। অন্য ভাইয়েরা সামনের অংশে ঘর নির্মাণ করেন। সবার চলাচলের জন্য উঠান খোলা রাখা হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি সীমানা বিরোধের জেরে একটি পক্ষ সেখানে পাকা ঘর নির্মাণ করলে প্রবাসী এমরানের পরিবারের যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে তারা এই দুর্ভোগে রয়েছেন। পরিবারের ৭৫ বছর বয়সী আমেনা বেগম অসুস্থ হলেও নিয়মিত চিকিৎসা করানো যাচ্ছে না। তিন সন্তান (আরেফিন, ইরফান ও আয়মান) স্বাভাবিকভাবে স্কুলেও যেতে পারছে না।

প্রবাসী এমরানের স্ত্রী রেখা আকতার বলেন, আমরা মানুষের ঘরের ভেতর দিয়ে চলাফেরা করি। বাচ্চারা ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারে না। রাত হলে সবচেয়ে বেশি ভয় লাগে। তিন মাস ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি।

স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের জন্য একাধিকবার বৈঠক হয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী। গত ২ মে দুই সমাজের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত কয়েক দফা বৈঠকে চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত হলেও অভিযুক্ত পক্ষ তা মানেননি।

এ অবস্থায় গত রোববার ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী পরিবার। তবে অভিযোগের পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।

অভিযুক্ত পরিবারের মন্তব্য জানতে বাসায় গেলে ঘরের দরজা বন্ধ পাওয়া যায়। তাঁদের ব্যবহত মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করাও সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন,  এ বিষয়ে আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আপাতত চলাচলের পথ সচল রাখতে স্থানীয় ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উভয় পক্ষকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। আশা করছি, আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি সমাধান হবে।

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?