সাবেক মন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
সোমবার (১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের সদস্যরা তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসিসসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। গত ২৮ সেপ্টেম্বর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। ওই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লেও চিকিৎসকরা তা নাকচ করেন।
জন্ম ও শিক্ষাজীবন
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। তাঁর বাবা মৌলভী আজহার আলী এবং মা ফাতেমা বেগম। তিনি স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও একমাত্র কন্যা ডা. তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
শিক্ষাজীবনে ১৯৬০ সালে ভোলা সরকারি হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৬২ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। পরে বিএসসি সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।
ছাত্রনেতা থেকে জাতীয় নেতা
ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ১৯৬৬-৬৭ সালে ইকবাল হলের (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ভিপি এবং ১৯৬৭-৬৯ মেয়াদে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন।
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে তিনি সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করার ঘোষণা দেন তোফায়েল আহমেদ।
সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি ৯ বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী রাষ্ট্রগঠনের নানা পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাওয়া এই প্রবীণ রাজনীতিকের মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।



