চট্টগ্রামের নবগঠিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে করার দাবিতে একটি পক্ষ উত্তরাঞ্চল তিন ইউনিয়নের বাসিন্দারা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। অপরদিকে, অন্যপক্ষের আজ বিকেলের পাল্টা অবস্থান কর্মসূচীর আহবানে এলাকায় উদ্বেগ উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। ফলে পুরো নতুন উপজেলাজুড়ে এখন আতংক বিরাজ করছে।
হরতাল আহবানকারীদের দাবী, নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর জনসাধারণের জন্য সহজ যোগাযোগযোগ্য ও ভৌগোলিকভাবে যৌক্তিক স্থানে করার দাবিতে আমরা শান্তিপূর্ণ হরতাল পালন করছি। এতে সাধারণ জনগন স্বতস্পূর্ত সমর্থনে আমরা আশা জাগাচ্ছি। ইনশাল্লাহ যৌক্তিক স্থানেই হবে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তর।
উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের ডাকে এই হরতাল কর্মসূচির ফলে সকাল থেকে হরতাল সমর্থকরা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে হেঁয়াকো ও বালুটিলা বাজার এলাকায় পিকেটিং ও ব্যারিকেড দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। ফলে সংশ্লিষ্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি এবং ঢাকা-ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসময় সড়কের দুই পাশে শত শত পণ্যবাহী ও দূরপাল্লার যানবাহন আটকা পড়ে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
গত ৮ জুলাই সরকার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা ঘোষণা করে। গেজেটে সদর দপ্তর নির্ধারণ করা হয় পশ্চিম ভূজপুর মৌজায়। আন্দোলনকারীদের মতে, ভূজপুর মৌজা থেকে ফটিকছড়ি উপজেলা সদরের দূরত্ব মাত্র আট কিলোমিটার, কিন্তু উত্তরের ইউনিয়নগুলো থেকে এই দূরত্ব ২৫-৩৮ কিলোমিটার পর্যন্ত।
উপজেলা বাস্তবায়ণ সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়কারী যুবদল নেতা নুরুল আমিন আজাদ বলেন, প্রশাসনিক কাজের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বাধ্য করা কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না। ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা ও যাতায়াত সুবিধা বিবেচনায় অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে যৌক্তিক স্থানে সদর দপ্তর করতে হবে।
এদিকে, আজকের হরতালের বিপক্ষে একটি পক্ষ বৃহস্পতিবার বিকেলে ভূজপুরে শান্তিপূর্ণ ‘অবস্থান কর্মসূচি’র ডাক দিয়েছেন। তারা যে কোনো মূল্যে সরকারের গেজেটকৃত স্থানে ‘সদর দপ্তর’ করার সিধান্ত বাস্তবায়ন করবেন বলে জানিয়েছেন। তাদের মতে ‘অবশেষে নতুন উপজেলা’ আমাদের পরম পাওয়া। এটাই আমাদের বড় অর্জন। আমরা সরকারের পাশে থাকতে চাই।
আজগর ছালেহী ও আবিদুর রহমান নামে ভুজপুরের দুই বাসিন্দা বলেন, ‘অবস্থান কর্মসূচীর মাধ্যমে জানাতে চাই, আমরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। গেজেটে যেখানে ‘সদর দপ্তর’ লেখা হয়েছে সেখানেই হবে। সে কারণে আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচী পালন করছি। একটি পক্ষ সরকারকে বিব্রত করতেই মূলত আজকে হরতাল কর্মসূচী দিয়েছেন। এতে জনভোগান্তির ফলে আন্দোলকারীরা এখন জনবিচ্ছিন্ন হয়েছেন।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক। বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।
‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে। আন্দোলকারীদের বিষয়টি উর্দ্ধতনদের জানানো হয়েছে।’



