জীবনভর পথে-প্রান্তরে, আজ শয্যায় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আহমদ আলী চৌধুরী

মহসীন কাজী

ফটিকছড়ির সাংবাদিকতার এক নিবেদিতপ্রাণ নাম আহমদ আলী চৌধুরী। একসময় দেশের সংবাদপত্র অঙ্গনে সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক ম্যাগাজিনের ছিল স্বর্ণালি অধ্যায়। নব্বইয়ের দশকে খবরের কাগজ, যায়যায়দিন, ছুটি, বিচিন্তা, চিত্রবাংলা, সুগন্ধা, সংবাদচিত্র, অপরাধচিত্রসহ অসংখ্য প্রকাশনা পাঠকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। এসব ম্যাগাজিনে লেখালেখির মধ্য দিয়েই গড়ে উঠেছেন দেশের অনেক প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিক। সেই প্রজন্মেরই একজন আহমদ আলী চৌধুরী।

১৯৯১ সালে মাসিক ফটিকছড়ি পত্রিকায় লেখালেখির মাধ্যমে সাংবাদিকতায় তাঁর যাত্রা শুরু। তখন তিনি ফটিকছড়ি ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি শিক্ষার্থী। অল্প সময়েই সরেজমিন প্রতিবেদন, সাক্ষাৎকার ও সমাজ-সংস্কৃতিভিত্তিক লেখার মাধ্যমে তিনি পাঠকমহলে পরিচিতি লাভ করেন। পরে সাপ্তাহিক ছুটি-এর চট্টগ্রাম প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিটি সংখ্যায় প্রকাশিত হতো তাঁর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, রাজনৈতিক সাক্ষাৎকার কিংবা জনপদের নানা অজানা গল্প।

জাতীয় দৈনিকে কাজের সুযোগ পেয়েও তিনি নিজের জনপদ ফটিকছড়িকেই বেছে নেন। স্থানীয় দৈনিকে কিছুদিন কাজ করার পর নিজ উদ্যোগে ফটিকছড়ি সংবাদ প্রকাশ শুরু করেন। ২০০৩-০৪ সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশিত এই পত্রিকাকে তিনি শুধু প্রিন্টেই সীমাবদ্ধ রাখেননি; সময়ের সঙ্গে যুক্ত করেছেন অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া সংস্করণও। ভিডিও প্রতিবেদনের মাধ্যমেও তুলে ধরছেন ফটিকছড়ির নানা সমস্যা, সম্ভাবনা ও মানুষের জীবনকথা।

আহমদ আলী চৌধুরী শুধু একজন সংবাদকর্মী নন, ফটিকছড়ির সাংবাদিকতার এক নিবেদিতপ্রাণ মুখ। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি জনপদের মানুষের সুখ-দুঃখ, আন্দোলন-সংগ্রাম, উন্নয়ন ও সম্ভাবনার গল্প তুলে ধরেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে। তাঁর কলমে স্থান পেয়েছে সাধারণ মানুষের না-বলা কথাগুলো।

আজ সেই মানুষটিই লড়ছেন নিজের জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াই। সম্প্রতি একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার হয়। কয়েকদিন চিকিৎসা শেষে বাসায় ফেরার পর শীতজনিত জটিলতা দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাঁর রক্তচাপ স্বাভাবিকের তুলনায় কম এবং বুকে অতিরিক্ত কফ জমে থাকায় শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। বর্তমানে তাঁকে হাই-ফ্লো অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন হলে পরবর্তী ধাপে লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

সংবাদ সংগ্রহের জন্য যিনি বছরের পর বছর মানুষের দুয়ারে ছুটে গেছেন, মানুষের কান্না, বেদনা ও সংগ্রামের গল্প তুলে ধরেছেন সংবাদপত্রের পাতায়। আজ তাঁকে ঘিরেই উদ্বেগ, প্রার্থনা আর অপেক্ষা। সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও অসংখ্য পাঠক তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন।

মানুষের কথা লিখে যাওয়া এই নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিক যেন আবারও সুস্থ হয়ে ফিরে আসেন তাঁর প্রিয় কর্মক্ষেত্রে- এটাই সবার প্রত্যাশা।

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?