উপ-সম্পাদকীয়

ফটিকছড়িতে প্রধানমন্ত্রীর সফর; দুয়ারে দাঁড়িয়ে উন্নয়নের স্বপ্ন

সালাহউদ্দিন জিকু

কোনো জনপদে একজন সরকারপ্রধানের সফর শুধু একটি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি নয়; এটি সেই জনপদের মানুষের বহুদিনের আশা-আকাঙ্ক্ষা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি এবং উন্নয়নের দাবিগুলো তুলে ধরার একটি অনন্য সুযোগ। আগামী ৯ আগস্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসা সফরকে ঘিরে তাই ফটিকছড়িবাসীর প্রত্যাশাও অনেক।

ফটিকছড়ি শুধু চট্টগ্রামের বৃহত্তম উপজেলাগুলোর একটি নয়; কৃষি, শিক্ষা, প্রবাসী অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ধর্মীয় ঐতিহ্যের কারণে এটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। অথচ সম্ভাবনার তুলনায় এ জনপদের উন্নয়ন এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রশাসনিক সুবিধা এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের কিছু বাস্তব চাহিদা আজও অপূর্ণ রয়ে গেছে।

সম্প্রতি প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা গঠন করা হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে বিশাল ভৌগোলিক বিস্তৃতি ও জনসংখ্যার কারণে ফটিকছড়ির দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রশাসনিক সেবা নিশ্চিত করতে ফটিকছড়ি দক্ষিণ উপজেলা গঠনের দাবিও সমানভাবে যৌক্তিক। বিকেন্দ্রীকৃত প্রশাসন শুধু সেবা সহজ করে না, স্থানীয় উন্নয়নকেও ত্বরান্বিত করে।

একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের আজাদী বাজার ও উত্তরাঞ্চলের হেঁয়াকোকে পৌরসভায় উন্নীত করার দাবিও দীর্ঘদিনের। দ্রুত নগরায়ণের এই সময়ে আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে পৌর প্রশাসনের বিকল্প নেই। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম- খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক সড়কের হাটহাজারী- ফটিকছড়ি অংশে চার লেনে উন্নীত করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচলে এই সড়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এর বর্তমান অবস্থা ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়।

যোগাযোগ ব্যবস্থার আরেকটি বড় প্রত্যাশা হলো ফটিকছড়ি সদর থেকে চট্টগ্রাম শহর পর্যন্ত নিয়মিত বিআরটিসি বাস সার্ভিস চালু করা। এতে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত যেমন সহজ হবে, তেমনি কমবে পরিবহন ব্যয় ও ভোগান্তি।

স্বাস্থ্য খাতেও ফটিকছড়ির মানুষের প্রত্যাশা কম নয়। বর্তমান ২০ শয্যার হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরেই প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে উন্নীত করা এখন সময়ের দাবি। উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হলে লাখো মানুষকে সামান্য চিকিৎসার জন্যও চট্টগ্রাম শহরমুখী হতে হবে না।

অতীতে একটি আক্ষেপ প্রায়ই শোনা যেত- ফটিকছড়ি সংসদ সদস্য পেলে সরকার পেত না, আবার সরকার পেলে শক্তিশালী প্রতিনিধিত্বের সুযোগ হতো না। বর্তমান বাস্তবতায় সেই পরিস্থিতি বদলেছে বলে অনেকেই মনে করছেন। তাই প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশাও স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে। তবে উন্নয়ন কোনো ব্যক্তি বা দলের অনুগ্রহ নয়; এটি জনগণের ন্যায্য অধিকার এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সেই অধিকার আদায়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সচেতন নাগরিক সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে ব্যক্তিকেন্দ্রিক উচ্ছ্বাসের চেয়ে জনস্বার্থের দাবিগুলোই বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত। যদি এই সফরের মাধ্যমে ফটিকছড়ির দীর্ঘদিনের উন্নয়ন-প্রত্যাশার বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত, সুনির্দিষ্ট ঘোষণা কিংবা বাস্তবায়নের আশ্বাস আসে, তবে সেটিই হবে এ সফরের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

ফটিকছড়ির মানুষ বিশেষ কোনো সুবিধা চান না; তারা চান তাদের ন্যায্য প্রাপ্য। তারা চান উন্নত যোগাযোগ, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো এবং পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন। সময় এসেছে ফটিকছড়িকে তার সম্ভাবনার উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার। আগামী ৯ আগস্টের সফর সেই নতুন যাত্রার সূচনা হোক- এটাই ফটিকছড়িবাসীর প্রত্যাশা।

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, ফটিকছড়ি প্রতিদিন।

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?