আদিত্য ও রুবেল—দুজনই পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ফটিকছড়ির কর্ণফুলী চা বাগানের শ্রমিক পরিবারের সন্তান তারা। বয়স বাড়লেও জন্মদিন নিয়ে তাদের কোনো বিশেষ স্মৃতি নেই। জন্মদিনে কেক কাটা কেমন, কেকের স্বাদই বা কেমন—এসব তাদের কাছে এতদিন ছিল অচেনা।
শুধু আদিত্য-রুবেল নয়, চা বাগানের আরও অনেক শিশুর কাছেই জন্মদিনের আয়োজন যেন অন্যের জীবনের গল্প। পরিবারে জন্মদিন ঘিরে কেক কাটা বা উৎসব করার সামর্থ্য নেই তাদের। তাই বুধবার বিকেলে যখন ফুটবল মাঠে কেক কাটা হলো, তখন শিশুদের চোখেমুখে দেখা গেল অন্যরকম উচ্ছ্বাস।
সেই আনন্দের উপলক্ষ তৈরি করেছিলেন ফটিকছড়ি আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর। নিজের ৬০তম জন্মদিনের আনন্দ তিনি ভাগ করে নিলেন কর্ণফুলী চা বাগানের শ্রমিক ও তাদের পরিবারের শিশুদের সঙ্গে।
বুধবার বিকেলে উপজেলার কর্ণফুলী চা বাগানের ফুটবল মাঠে জন্মদিন উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়। কেক কাটার পর তা উপস্থিত শিশুদের মধ্যে বিতরণ করেন সরোয়ার আলমগীর। কেক হাতে পেয়ে শিশুদের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে পুরো মাঠে।
জন্মদিন উপলক্ষে সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মুঠোফোনে শুভেচ্ছা পান সংসদ সদস্য। তবে নিজের বিশেষ দিনটি পরিবার, বন্ধু কিংবা রাজনৈতিক সহকর্মীদের সঙ্গে প্রচলিত আয়োজনের বদলে চা শ্রমিকদের সঙ্গে কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম, ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম খান, ভূজপুর থানার ওসি বিপুল চন্দ্র দে, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব জহির আজম চৌধুরী, কর্ণফুলী চা বাগানের ব্যবস্থাপক শাফি আহমেদ, মিহির চক্রবর্তী, জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব নাজিম উদ্দীন শাহীনসহ অনেকে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রোটারিয়ান জুয়েল চক্রবর্তী।
স্থানীয়রা বলেন, জন্মদিন সাধারণত পরিবার, বন্ধু কিংবা রাজনৈতিক সহকর্মীদের সঙ্গে উদ্যাপন করা হয়। কিন্তু চা শ্রমিক পরিবারের শিশুদের সঙ্গে এমনভাবে জন্মদিনের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আয়োজন ব্যতিক্রমী। এতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে উৎসবের অনুভূতি।



