আহার-বিহার, পোশাক-আশাক, আরাম-বিশ্রাম নানা প্রয়োজনে আবর্তিত হয় আমাদের জীবন। ইসলাম ধর্মের গণ্ডিতে থেকে এসব প্রয়োজন পূরণ করার শুধু অনুমোদনই নয়, বরং ক্ষেত্রবিশেষ রয়েছে সওয়াবের অঙ্গীকার। তবে ত্যাগ, পরার্থপরতা, অন্যকে প্রাধান্য দেওয়া বলে একটি কথা আছে।
নিজের চাহিদা দাবিয়ে রেখে অন্যকে সুযোগ করে দেওয়া ইসলামের সুমহান আদর্শের জাজ্বল্যমান একটি দিক। যার বিভা ও দীপ্তি ব্যক্তিজীবনকে করে তোলে আলোকময়। বন্ধু-স্বজন, সহকর্মী ও সফরসঙ্গীর কাছে গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। ব্যক্তিত্ববান সুপুরুষ রূপে নিজেকে গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
শুধু তা-ই নয়, এদের প্রশংসায় মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, (যুদ্ধ ব্যতীত মুসলমানদের হাতে আসা রাষ্ট্রীয় সম্পদে) তাদেরও প্রাপ্য, যারা পূর্ব থেকেই এ নগরে ইমানের সঙ্গে অবস্থানরত। যে কেউ হিজরত করে তাদের কাছে আসে, তাদের তারা ভালোবাসে এবং যা কিছু তাদের (মুহাজিররা) দেওয়া হয়, তার জন্য নিজেদের অন্তরে কোনো চাহিদা বোধ করে না এবং তাদের তারা নিজেদের ওপর প্রাধান্য দেয়, যদিও তাদের অভাব অনটন থাকে। যারা স্বভাবগত কার্পণ্য হতে মুক্তি লাভ করে, তারাই তো সফলকাম। (সুরা হাশর: ০৯)
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একবার নবীজি (সা.)-এর কোনো এক সাহাবিকে ছাগলের মাথা হাদিয়া দেওয়া হলো। তখন তিনি বললেন, ‘আমাদের চেয়ে আমার অমুক ভাই এবং তার পরিবারের উক্ত হাদিয়ার বেশি প্রয়োজন।’ এ কথা বলে তিনি তা (তার সেই ভাইয়ের কাছে) পাঠিয়ে দিলেন। এভাবে উক্ত হাদিয়া তিনি (দ্বিতীয় ব্যক্তি) তার আরেক ভাইয়ের কাছে পাঠালেন। এমনকি সাত ঘর ঘুরে প্রথম ব্যক্তির কাছে এসে পৌঁছাল। মহান আল্লাহ এ পরিপ্রেক্ষিতেই অবতীর্ণ করেছেন, ‘আর তারা নিজেদের ওপর অন্যকে অগ্রাধিকার দেয় নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও।’ (শুআবুল ইমান: ৩৪৭৯)



