পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখা, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং খেলাধুলার প্রসার ও নারীদের ক্রীড়া উন্নয়নের লক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী লক্ষীছড়ি জোনের তত্ত্বাবধানে সম্প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) জোনের ব্যবস্থাপনায় দুল্যাতলী আর্মি ক্যাম্প সংলগ্ন মাঠে এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তাজুল ইসলাম।
সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা, ক্রীড়া, সামাজিক সম্প্রীতি ও যুব উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে যে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, এই আয়োজন তারই ধারাবাহিকতা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জোনের অফিসারবৃন্দ, লক্ষীছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, আয়োজক কমিটির সদস্য, অংশগ্রহণকারী দলগুলোর খেলোয়াড় ও কোচ এবং লক্ষীছড়ি এলাকার বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক উপস্থিত ছিলেন।টুর্নামেন্টে লক্ষীছড়ি জোনের আওতাধীন মোট চারটি নারী ফুটবল দল অংশগ্রহণ নেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তাজুল ইসলাম বলেন, এই টুর্নামেন্টের লক্ষ্য কেবল প্রতিযোগিতা আয়োজন নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করা।
তিনি বলেন, খেলাধুলা তরুণদের দক্ষতা বিকাশ, সৃজনশীলতা ও সামাজিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং হতাশা ও বেকারত্ব কমাতে সহায়ক হয়। একই সঙ্গে খেলাধুলা নেতৃত্বগুণ, আত্মবিশ্বাস, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া মেয়েদের মেধা ও যোগ্যতা বিকাশের সুযোগ তৈরি করাই এই নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। এই টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়েই লক্ষীছড়ির গর্ব, জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত ফুটবলার মণিকা চাকমার মতো আরও বহু প্রতিভাবান নারী খেলোয়াড় উঠে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জোন অধিনায়ক আরে বলেন, ফুটবল একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ দলীয় খেলা, যা নারী খেলোয়াড়দের মধ্যে ঐক্য, সহযোগিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ইতিবাচক সামাজিক মূল্যবোধ বিকাশে অনন্য ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি খেলাধুলা নারীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আত্মনির্ভরতা ও নেতৃত্বগুণ বিকাশে সহায়তা করে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নারী ক্রীড়ার উন্নয়ন ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।



