এদেশে মানবিক মানুষের অভাব নেই। কিন্তু মানবিক চিকিৎসকের বড় অভাব। মানবিক বলতে এমন চিকিৎসককে বোঝায়; যিনি শুধু চিকিৎসা সেবাই দেন না, বরং রোগীর প্রতি সহানুভূতিশীল, দয়ালু এবং সাধ্যের মধ্যে বিনামূল্যে বা কম খরচে সেবা প্রদান করে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
তারা রোগীর দুঃখ-কষ্ট বোঝেন, তাদের মানসিক ও আর্থিক অবস্থার প্রতি সংবেদনশীল হন এবং সেবার ব্রত নিয়ে কাজ করেন।
তেমনই এক মানবিক চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন বুনেছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দা শুভ প্রিয় চাকমা। তিনি ফটিকছড়ি উপজেলার খিরামের বড়ইতলি গ্রামের জহিন চাকমার একমাত্র সন্তান। এবার তিনি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে ২৫-২৬ সেশনে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছেন। শুভ’র মেরিট পজিশন ৩১৭৮ এবং স্কোর ১৭৭।
এর আগে শুভ ফটিকছড়ি গ্রামার স্কুল এন্ড কলেজ থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় সাধারণ বৃত্তি, ফটিকছড়ি করোনেশন সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি-তে জিপিএ ফাইভ এবং চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচএসসি-তে জিপিএ ফাইভ পেয়ে সাফল্য দেখান।
বাবা জহিন চাকমা ও মা সুমিতা চাকমার এই ছেলে ‘শুভ’ লেখাপড়ায় বেশ মনোযোগী। দৈনিক ৭-৮ ঘন্টা পড়ালেখায় সময় দেন। সময় এবং সুযোগ পেলেই ছুটে যান গ্রামের বাড়ির পাশে মেঠোপথ ধরে খেলার মাঠে শৈশব কাঠানো বন্ধুদের সাথে।
শুভ’র বাবা ফটিকছড়ি উপজেলার বৃহত্তম কর্ণফুলি চা-বাগান স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কমিউনিটি প্যারামেডিক হিসাবে কর্মরত। আর আদরিনী মা সু-গৃহিণী। বাবা কর্মক্ষেত্রে বাইরে বেশি সময় দিলেও মা পড়ালেখায় তার প্রতি যত্ন-আত্মি নেন।
শুভ’র সাফল্যে তার পুরো পরিবার, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বেশ উৎফুল্ল ও আনন্দিত। এলাকাবাসীর আশা অজপাড়া গাঁয়ের এই কৃতিসন্তান ‘শুভ’ ভবিষ্যতে আমাদের এলাকা আলোকিত করে একজন মানবিক চিকিৎসক হবেন। তার সেবায় এলাকা, দেশ ও জাতি একদিন চিকিৎসা সেবায় উপকৃত হবেন।
শুভ’র বাবা জহিন চাকমা বলেন, ‘মানবিক মানুষ ও মানবিক চিকিৎসক বানাতে চাই একমাত্র সন্তান শুভ’কে। যেখানে থাকবে অন্যের প্রতি সহানুভূতি, সহমর্মিতা এবং উদারতার মতো মহান গুণাবলি।’
শুভ প্রিয় চাকমা বলেন, ‘মানবিকতা দিয়ে আমি সমাজের বিভিন্ন স্তরে শান্তি, সমতা ও সৌহার্দ্য বয়ে আনার চেষ্ঠা করবো। এলাকার দু;স্থ ও গরীবদের সেবাদানের মাধ্যমে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাই। দিন শেষে মানবিক চিকিৎসক হওয়াটাই আমার কাছে বড়ো। আমি সবার আশীর্বাদে এগিয়ে যেতে চাই।’



