৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফটিকছড়ি আসন

আজ থেকে নির্বাচনী প্রচারণার শুরু, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

ডেস্ক নিউজ, ফ.প্র

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হলো আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে। এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসনে জামায়াত ও স্বতন্ত্রসহ ৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী শুরু করবেন প্রচার যুদ্ধ, তবে মানতে হবে নির্বাচন কমিশন (ইসির) আরচণবিধি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনের জন্য প্রার্থীরা পাচ্ছেন টানা ২০ দিনের প্রচারের সুযোগ, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। প্রচারণা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মাঠে নামছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। এরই মধ্যে সংক্ষিপ্ত বিচারের ক্ষমতা নিয়ে সক্রিয় রয়েছে নির্বাচনী তদন্ত কমিটি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতাও বাড়ানো হবে। নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে প্রার্থীরা কী কী করতে পারবেন এবং কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সাথে স্ব-স্ব রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের মনোনীত প্রার্থীকে নির্বাচনী আরচণবিধি মেনে চলার আহবান জানিয়েছেন।

গতকাল বুধবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতীক পেয়ে আজ আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নামছে ৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী। প্রার্থীরা হলেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়ি পাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. নুরুল আমিন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান ও দলটির একতারা প্রতীকের প্রার্থী সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী, ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আহম্মদ কবির করিম, গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী রবিউল ইসলাম তানজিন, জনতার দলের কলম প্রতীকের প্রার্থী গোলাম নওশের আলী, হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আরা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী জুলফিকার আলী মান্নান।

এদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় এবং বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। আজ দুপুর নাগাদ আদালতে বিষয়টি নিস্পত্তি হতে পারে বলে জানিয়েছে তাঁর আইনজীবি ইউসুফ আলম মাসুদ।

সকল প্রার্থীদের নির্বাচনী আরচণবিধি মেনে চলার আহবান জানিয়েছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম।

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের আচরণ বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে। বিদ্যমান বিধিমালার বিধি ৪-এর উপ-বিধি (৩) সংশোধন করে শব্দগত পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রার্থীর দায়বদ্ধতা আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। আগের বিধিতে বলা ছিল, নির্বাচন পূর্ব সময়ে কোনো সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পের অনুমোদন বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ‘করা যাইবে না’। নতুন সংশোধনীতে এটিকে ‘করিতে পারিবেন না’ শব্দগুচ্ছ দিয়ে প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে। অর্থাৎ, কোনো প্রার্থী ব্যক্তিগতভাবে বা প্রভাবে কোনো প্রকল্পের ঘোষণা বা ফলক উন্মোচন করতে পারবেন না।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী জনসভা করতে চাইলে প্রস্তাবিত সভার কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে স্থান ও সময় সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। জনসভাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং চলাচলের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ ছাড়া, প্রচারণা শুরুর আগে রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীকে তাদের কর্মসূচি প্রস্তাব আকারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে। যদি একই স্থানে ও সময়ে একাধিক দল কর্মসূচি পালনের আবেদন করে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা সমন্বয় করবে। প্রচারণার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কমিশন।

সংশোধনীতে বলা হয়েছে:

এক প্রার্থীর ফেস্টুন, ব্যানার বা বিলবোর্ডের ওপর অন্য কোনো প্রার্থীর প্রচারণা সামগ্রী টাঙানো যাবে না, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কোনো প্রকার প্রচারসামগ্রী বিকৃতি বা বিনষ্ট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং সংসদীয় আসনের প্রতিটি ইউনিয়ন, পৌরসভা বা মেট্রোপলিটন এলাকার ওয়ার্ড প্রতি সর্বোচ্চ একটি অথবা সমগ্র নির্বাচনী এলাকায় ২০টির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচনী জনসভায় মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ একক কোনো জনসভায় ৩টির বেশি মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে সাধারণ প্রচারণার (যেমন- রিকশায় বা ভ্রাম্যমাণ প্রচার) ক্ষেত্রে এই সংখ্যাগত সীমাবদ্ধতা প্রযোজ্য হবে না।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনী পরিবেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতেই এই পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে। এই প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই নতুন নিয়মগুলো অমান্য করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের সাজা:

সংশোধিত নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে এবারের নতুন সংশোধনীতে। কোনও প্রার্থী বা দল বিধি ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদন্ড বা দেড় লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দন্ডই দেয়া হতে পারে। দলের ক্ষেত্রেও ১ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি তদন্তে প্রমাণিত হলে প্রার্থিতাও বাতিল করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে রয়েছে। প্রচারে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা ভোটের প্রচারে ড্রোন, পোস্টার ব্যবহার, বিদেশে প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ২০টির বেশি বিলবোর্ডে মানা, একমঞ্চে ইশতেহার ঘোষণা ও আচরণবিধি মানতে প্রার্থী ও দলের অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভোটের প্রচারে কড়াকড়ি আরোপ, অসৎ উদ্দেশে এআই ব্যবহারে মানা, পোস্টার ও ড্রোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাসহ কি করা যাবে, কি করা যাবে না, তা তুলে ধরা হয়েছে এ বিধিমালায়। আচরণবিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদন্ড ও দেড় লাখ টাকা জরিমানা এবং দলের জন্য দেড় লাখ টাকা অর্থদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে তদন্ত সাপেক্ষে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও রয়েছে ইসির।

প্রচারণা-সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা:

কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট বা প্রার্থীর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা পরিচালনা করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট বা দল বা প্রার্থী সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইল আইডিসহ অন্যান্য সনাক্তকরণ তথ্যাদি উক্তরূপে প্রচার-প্রচারণা শুরুর পূর্বে রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করতে হবে; প্রচার-প্রচারণাসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে অসৎ উদ্দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করা যাবে না; ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ভুল তথ্য, কারো চেহারা বিকৃত করা ও নির্বাচন সংক্রান্ত বানোয়াট তথ্যসহ সব ধরনের ক্ষতিকর কনটেন্ট বানানো ও প্রচার করা যাবে না; প্রতিপক্ষ, নারী, সংখ্যালঘু বা অন্য কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা উসকানিম‚লক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না; নির্বাচনী স্বার্থ হাসিল করার জন্য ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহার করা যাবে না; সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচন সংক্রান্ত সব কনটেন্ট শেয়ার ও প্রকাশ করার পূর্বে সত্যতা যাচাই করতে হবে; রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি, ভোটারদের বিভ্রান্ত করার জন্য কিংবা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কোনো প্রার্থী বা ব্যক্তির চরিত্রহনন কিংবা সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে, সাধারণভাবে বা সম্পাদন (Edit) করে কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা (এআই) দিয়ে কোনো মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, পক্ষপাতমূলক, বিদ্বেষপূর্ণ, অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ এবং মানহানিকর কোনো আধেয় (কন্টেন্ট) তৈরি, প্রকাশ, প্রচার ও শেয়ার করতে পারবেন না।

আচরণবিধিতে আরও রয়েছে-

কোনো দল বা প্রার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদেশে জনসভা, পথসভা, সভা-সমাবেশ বা কোনো প্রচারণা করতে পারবে না। ভোটের প্রচারে থাকছে না পোস্টারের ব্যবহার। একজন প্রার্থী তার সংসদীয় আসনে ২০টির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবে না; যার দৈর্ঘ্য হবে সর্বোচ্চ ১৬ ফুট আর প্রস্থ ৯ ফুট। নির্বাচনের দিন ও প্রচারের সময় কোনো ধরনের ড্রোন, কোয়াডকপ্টার বা এ জাতীয় যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো প্রার্থী ও প্রতিষ্ঠান ভোটার স্লিপ বিতরণ করতে পারবে। তবে ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি, পদের নাম ও প্রতীক উল্লেখ করতে পারবে না। বিলবোর্ডে শুধু যেগুলো ডিজিটাল বিলবোর্ড, সেগুলোতে আলোর ব্যবহার করা যাবে। বিদ্যুতের ব্যবহার করা যাবে। তাছাড়া আলোকসজ্জার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেটে পলিথিনের আবরণ নয়, প্লাস্টিক (পিভিসি) ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না। সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির তালিকায় অন্তর্বর্তী/তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদেরও যোগ করা হয়েছে। ফলে তারা প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নামতে পারবেন না। প্রচারে পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহারে জোর দেওয়া হয়েছে; প্রচার সামগ্রীতে পলিথিন, রেকসিনের ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। প্রচারের সময় শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেলে রাখতে হবে। আচরণবিধি মেনে চলার ব্যাপারে প্রার্থী ও দলের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামাও দিতে হবে। আচরণবিধির ‘গুরুতর’ অপরাধের ক্ষেত্রে আরপিওতে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রয়েছে।

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?