ফটিকছড়ির ঐতিহাসিক মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে শুরু হয়েছে মাইজভাণ্ডারী তরিকার প্রবর্তক গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর ১২০তম ওরশ শরীফ। ওরশ উপলক্ষে জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও পেশাভেদ ভুলে লাখো আশেক-ভক্তের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে দরবার প্রাঙ্গণ।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভক্তদের সমাগমে মুখরিত হয়ে ওঠে মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ। ওরশ উপলক্ষে দরবার শরীফের বিভিন্ন মঞ্জিল ও ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক কর্মসূচি।শনিবার বা’দ ফজর শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর রওজা শরীফ গোসল ও গিলাফ চড়ানোর মাধ্যমে ওরশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ওরশ উপলক্ষে বিভিন্ন মঞ্জিলের উদ্যোগে তাওয়াল্লোদে গাউছিয়া, জিকির, সেমা, খতমে কোরআন, খতমে গাউসিয়া, খতমে খাজেগান, মিলাদ ও আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।ওরশ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, গাড়ি পার্কিং ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে ওরশ উপলক্ষে গাউসিয়া হক মঞ্জিল প্রতিষ্ঠিত শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্টের উদ্যোগে ১০ দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করা হয়। আধ্যাত্মিক চর্চার পাশাপাশি মানবসেবা ও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৪ জানুয়ারি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে বিশেষ ক্রোড়পত্র।
ক্রোড়পত্রের বাণীতে গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী বলেন, ব্যক্তি, সমাজ ও বিশ্বসভ্যতা আজ সংকটময় সময় অতিক্রম করছে। অতিরিক্ত পার্থিব লালসা, অসহিষ্ণুতা ও আধিপত্যবাদী মনোভাব এ সংকটের মূল কারণ। আল্লাহর আনুগত্য, নৈতিকতা, অনাসক্তি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই মুক্তির পথ। তিনি বলেন, ইসলাম জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলকে গ্রহণের শিক্ষা দেয় এবং মদিনা সনদ বহুধর্মীয় সমাজে ন্যায় ও সাম্যের ভিত্তিতে সহাবস্থানের অনন্য দৃষ্টান্ত।
অপরদিকে বিশেষ ক্রোড়পত্রে গাউসিয়া হক মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন ও শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্টের ম্যানেজিং ট্রাস্টি সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান বলেন, গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর দ্বিশততম বেলাদত বার্ষিকী ও ১২০তম উরশ শরীফ উপলক্ষে তিনি মুসলিম উম্মাহসহ বিশ্বমানবতাকে শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান।
তিনি বলেন, মানুষের জ্ঞান সীমিত, আর সর্বস্রষ্টা আল্লাহই একমাত্র অসীম জ্ঞানের অধিকারী। মানব জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা উপলব্ধিই আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের ভিত্তি। গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী (ক.) ‘খিরী কারবার’-এর মাধ্যমে জ্ঞানজগতের অসীমতার বাণী তুলে ধরে বাহাস-বিতর্ক পরিহার করে নীরব জিকির, ঐক্য ও আত্মশুদ্ধির পথে মানবজাতিকে আহ্বান জানিয়েছেন।



