ফটিকছড়ির মাইজভান্ডারে প্রধান ওরস শেষ শনিবার রাতে। আধ্যাত্ম্য শরাফতের প্রাণ পুরুষ সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক.) মাইজভাণ্ডারীর ১২০ তম বার্ষিক ওরসে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও মেলায় প্রচুর মুলার বেচাকেনা চলে। এই মুলার কদর সর্বত্র, বিক্রিও বেশি। ওরসের অন্যতম আর্কষণ এখন এই ‘ভাণ্ডারী মুলা’।
তিনদিনব্যাপী ওরসকে কেন্দ্র করে শনিবার দরবারের আশেপাশে দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসে লোকজ মেলা। যা মাঘের মেলা নামে পরিচিত। ভক্ত-যায়েরীনগণ দরবারে জেয়ারত শেষে বিশেষ সবজি ‘ভান্ডারী মুলা’ হাতে নিয়ে নীড়ে ফিরেছেন। লাখো ভক্ত এটাকে বিশেষ নিয়ত করে গ্রহণেরও জনশ্রুতি আছে।
জানা যায়, ওরসকে কেন্দ্র করে হালদার চরে উৎপাদিত বড় আকারের মুলা স্থানীয় কৃষকেরা মাঘের মেলায় বিক্রির উদ্দেশ্যে তিনমাস ধরে অপেক্ষায় থাকেন। কারণ আশেক-ভক্তদের মাঝে এ অঞ্চলের মুলার যেমন আলাদা কদর; তেমনি বিক্রিও দেদার। তাই প্রতিবছর ওরসে কৃষক এসব ‘ভাণ্ডারী মুলা’ বিক্রি করে লাভের আশায় থাকেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নাজিরহাট ঝংকার মোড় থেকে দরবার পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সড়কের ধারে মুলার পসরা সাজিয়ে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। বিক্রিও চলছে দেদার। একেকটি মূলা দুই-তিন হাত র্পযন্ত লম্বা এবং ৮ থেকে ১০ কেজি ওজনের। এসব মুলা সবজি হিসেবে এবং দরবারে মাংস-মুলা তবারুকের বিশেষ প্রচলন থাকায় নিয়ত করে এই মুলা নিয়ে বাড়িতে যান বলে জানান ভক্ত-আশেকরা। দরবারে আসা মুলা ক্রেতা আবদুল আজিজ বলেন, ‘প্রতি বছর ওরসে এলে মুলা নিয়েই বাড়িতে যাই। এসব মুলা খেতে অনেক সুস্বাধু এবং দামেও ভালো। এক নিয়তে মানত করে এই মুলা রান্না করে খেতে পছন্দ করি।’ঝংকার মোড়ে মুলা বিক্রেতা আয়নাল হক বলেন, ‘সারা বছরই আশায় থাকি ১০ মাঘ ওরসের মেলার জন্য। কারণ মেলায় ভাল দামে বিক্রি হয় বলে মুলায় লাভও পাওয়া যায় দারুণ। এসময় ক্রেতাও থাকে আশানুরূপ।’
জানা গেছে, মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা ব্যবসাপাতি করতে আসেন। রকমারী খাবার, তৈজষপত্র ও বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসে এখানে। মেলায় পোশাক, খেলনা, প্রসাধনী সামগ্রীসহ গৃহস্থের প্রয়োজনীয় বাঁশ বেত, মাটির ও লোহার তৈরি জিনিসপত্র পাওয়া যায়। মাইজভান্ডার আহমদিয়া মঞ্জিলের তত্বাবধায়ক শিক্ষক মো. শামীমুল হাসান বলেন, ‘হালদা চরের মুলা বিশেষ তরারুক হিসেবে আশেক-ভক্তরা বিভিন্ন অঞ্চলে কিনে নিয়ে যান। তাছাড়া দরবারের মাংস-মুলার তরকারি বিশেষ তবারুক হিসেবেও ভক্ষণ করেন। ফলে কৃষকেরা সারাবছর অপেক্ষায় থাকেন ‘মাঘের মেলা’ কখন আসে। এতে কৃষক যেমন লাভবান হন, তেমনি আশেক-ভক্তরাও কিনে নিয়ে তাদের মনোবাসনা পূরণ করেন।’




