৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পোস্টাল ভোট:

দেশ নেই কাছে, তবু ভোটে ছুঁয়ে দেখলাম স্বদেশ

ইউসুফ আরফাত

“বিদেশে থেকেও মনে হলো আজ আমি দেশে আছি। ব্যালেটে সিল দেওয়ার মুহূর্তে দেশের মাটি, মানুষ সব চোখের সামনে ভেসে উঠল।”কথাগুলো চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার প্রবাসী সালাউদ্দিন মাহমুদের। জীবনে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আবেগ আপ্লুত হন তিনি।

প্রথমবার চালু হওয়া এই ব্যবস্থাকে ঘিরে ফটিকছড়ির প্রবাসীদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ। দূর প্রবাসে থেকেও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাওয়ায় আনন্দ, গর্ব আর দায়বদ্ধতার অনুভূতি একাকার হয়ে উঠেছে তাদের মধ্যে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলার পোস্টাল ভোট নিবন্ধনে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফটিকছড়ি উপজেলা। এবার এই আসনে ৭ হাজার ৬৮১ জন প্রবাসী ভোটার হিসেবে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৪৬৫ জন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসী সালাউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “দেশে থাকি না, কিন্তু দেশের সিদ্ধান্তে অংশ নেওয়ার অধিকার থেকে কখনো নিজেকে আলাদা ভাবিনি। পোস্টাল ব্যালট সেই সুযোগটা বাস্তবে এনে দিয়েছে।” তাঁর মতো অনেক প্রবাসীর কণ্ঠেই শোনা যাচ্ছে একই অনুভূতি ভোটের মাধ্যমে দূরত্ব কমে এসেছে, গণতন্ত্রের সঙ্গে সংযোগ আরও দৃঢ় হয়েছে।

ওমান প্রবাসী ফোরকান মাহমুদ বলেন, “দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ কখনো কমেনি। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে মনে হয়েছে, আমি আবারও দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে পেরেছি।

সৌদি প্রবাসী রিয়াদ রহমান আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, “বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে যখন ব্যালট হাতে নিয়েছি, তখন চোখের সামনে ভেসে উঠেছে আমার গ্রাম, আমার ফটিকছড়ি। অনেক দূরে থেকেও মনে হয়েছে আমি দেশের মাটিতেই দাঁড়িয়ে আছি।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলীয় ও স্বতন্ত্র ৮ প্রার্থী। প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি মনোনীত সরোয়ার আলমগীর (ধানের শীষ), ১১ দলীয় জোট ও জামায়াত মনোনীত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নূরুল আমিন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভাণ্ডারী (একতারা), গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসান তানজিম (ট্রাক), জনতা পার্টির গোলাম নওশের আলী (কলম), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জুলফিকার আলী মান্নান (হাতপাখা)। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন আহমদ কবির করিম (ফুটবল) ও জিন্নাত আরা (হরিণ)।

নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসীদের অংশগ্রহণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করবে। ফটিকছড়ির অভিজ্ঞতা সেই সম্ভাবনাকেই জোরালোভাবে সামনে এনেছে দেশ না থাকলেও ভোটে ছুঁয়ে দেখা যায় স্বদেশ।

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?