২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইকবাল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতেই চাঁদাদাবীর বিষয়টি সামনে আনা হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট-কাজীরহাট সড়ক ধরে হারুয়ালছড়ি গ্রামের উপর দিয়ে গেলেই অন্যতম শষ্যভান্ডার নামে খ্যাত ‘ফটিকছড়ি বিল’। যত দুর চোখ যায় বিস্তীর্ণ বিলজুড়ে সুবজের সমারোহ। অনুকুল কৃষিকাজের জন্য এমন কোনো মৌসুম নেই; যেখানে ফলফলাদি থেকে শুরু করে নানা অর্থকরী ফসল হয় না। কিন্তু সেই উর্বরা জমির উপর কূ-নজর পড়ে এলাকার কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর। তারা অধিক মুনাফার আশায় ২০১৮ সালে সেখানে একটি ইটভাটা স্থাপনের প্রস্তুতি নেন। এতে স্থানীয়রা ফসলি জমিতে ইটভাটা স্থাপনে বাধা দিলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

তৎকালীন এবং বর্তমানেও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ওই দিন থেকেই মূলত আমি তাদের প্রতিপক্ষ। বিষয়টি স্থানীয় এবং জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশ হলে পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেন। মামলায় ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ হয়। দীর্ঘদিন পর ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে মামলাটি স্থগিত করেছে দাবী করে এলাকায় মিথ্যা সংবাদ ছড়িয়ে দিয়ে আবারও ভাটাটি চালুর সিদ্ধান্ত নেন। পূণরায় কাজ শুরুর হলে উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার ভ্রাম্যমান আদালত চালিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করে। কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাত-বিরাতে ইটভাটার কাজ চলতে থাকলে গত ১১ ফেব্রুয়ারি উপজেলা প্রশাসন আবারো ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। এসময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি সেখানে উপস্থিত হই। মূলত সে কারণেই আমার বিরুদ্ধে ভূয়া চাঁদা দাবি ও হামলার অভিযোগে মামলা হয়।’

গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও ইটভাটার মালিক মো. শফিউল আলম। চেয়ারম্যান ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও শারিরিকভাবে হামলা করেছেন বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।

মামলায় হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরীকে প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়াও তার সহযোগী আলাউদ্দিনসহ অজ্ঞাতনামা পরিচয়ের আরও ২ থেকে ৩ জনকে মামলায় রাখা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

মামলার আরজিতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি চেয়ারম্যানসহ অন্যান্যরা ভুক্তভোগীর ‘এন এস ব্রিকফিল্ডে’ গিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা দেওয়ার জন্য চার দিন সময় বেঁধে দেন বলে জানানো হয়। পরে ১৫ ফেব্রুয়ারি স্ব-শরীরে আবারও ওই ব্রিকফিল্ডে এসে চাঁদা দাবি করেন বলে উল্লেখ করেন। আরোও অভিযোগ করেন, ওই সময় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ব্যবসায়ী শফিউল আলমের শার্টের কলার ধরে শারিরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এসময় টানাহেঁচড়া ও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে আসামিরা ইটভাটা প্রতিষ্ঠানের ইঞ্জিন ও বিভিন্ন প্রকার আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। এতে তার প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়।

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি বৃহস্পতিবার রাত থেকেই উপজেলাজুড়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃস্টি হয়। কেউ কেউ এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও আবার কেউ নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন। নানা সমালোচনাতো চলছেই।

বিষয়ে উপজেলা পরিবেশ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি সোলায়মান আকাশ জানান, পরিবেশ প্রশাসনের একাধিক অভিযান ও উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও ভাটা চালুর চেষ্টা আইনের প্রতি অবজ্ঞার শামিল।

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন, পরিবেশবিরোধী প্রকল্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পরই চাঁদাবাজির অভিযোগটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশিল সমাজের ব্যক্তিবর্গ বলছেন, ভাটার মালিক শফিউল আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আছে। ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের আড়ালে যেন জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আদালতের নির্দেশনা মেনে, পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা করে এবং সব পক্ষের বক্তব্য শুনে একটি স্বচ্ছ তদন্তই পারে প্রকৃত সত্য সামনে আনতে।

চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী আক্ষেপ করে বলেন, ‘ওই দিন ইউএনও’র নেতৃত্বে প্রশাসন ও পুলিশ গিয়ে ঐ ইটভাটায় অভিযান চালায়। জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমিও সেখানে থেকেছি; এটাই আমার অপরাধ। জীবনের বিনিময়ে হলেও এলাকায় কোনো অন্যায়-অবিচার চলতে দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘এলাকার সাধারণ মানুষ পাশে আছে, থাকবেন। তারা এসব প্রপাগন্ডা ও ভূয়া মামলার কথা বিশ্বাস করে না।

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?