১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়ক; দু’মাসেই গেলো ১০ তাজা প্রাণ

ইউসুফ আরাফাত, মাল্টিমিডিয়া সম্পাদক

চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক যেন দিন দিন মৃত্যুফাঁদ।

চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক যেন দিন দিন মৃত্যুফাঁদ। চলতি বছরের দুই মাসেই এই সড়কের একটি অংশে ১১ টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের সংকীর্ণতা, বিপজ্জনক বাঁক, অতিরিক্ত গতি ও ট্রাফিক শৃঙ্খলার অভাবে মহাসড়কটি এখন মৃত্যুপরীতে পরিণত হয়ে উঠেছে।

সর্বশেষ সাপ্তাহ না যেতেই শনিবার (১৪ মার্চ) রাতে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের নয়াবাজার এলাকায় মোটরসাইকেল ও কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে সিরাজুল ইসলাম (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এর আগে রোববার (৮ মার্চ) ফটিকছড়ি উপজেলার পেলাগাজী দিঘী এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে চার নির্মাণ শ্রমিক নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরোও অন্তত ২০ জন। স্থানীয়রা জানান, নিহত চারজন কাজ শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন।

নাজিরহাট হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় ২০২৫ সালে মোট ২৫টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ১৯ জন নিহত হন। আর চলতি বছরের দুই মাসেই ১১ টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১০ জনের।

স্থানীয়দের মতে, সড়কটি তুলনামূলক সংকীর্ণ এবং বেশ কয়েকটি বাঁক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাশাপাশি বেপরোয়া ওভারটেকিং, অতিরিক্ত গতি এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের কারণেও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

পথচারী দৌলত মিয়া বলেন, “এই সড়ক দিয়ে হাঁটা বা রাস্তা পার হওয়াটাই এখন ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটতে দেখি। অনেক জায়গায় রাস্তা সরু, আবার মোড়গুলোও খুব ঝুঁকিপূর্ণ।”

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক জিকু চৌধুরী বলেন, “প্রতিদিন চট্টগ্রাম শহরে যাতায়াত করি। কিন্তু এই সড়ক দিয়ে চলাচলে সব সময় একটা ভয় নিয়ে যেতে হয়। সামান্য অসাবধান হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।”

স্কুল শিক্ষার্থী আনোয়ার আলী বলে, “স্কুলে যাওয়া-আসার সময় রাস্তা পার হতে খুব ভয় লাগে। গাড়িগুলো খুব দ্রুত চলে। অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকলেও গাড়ি থামে না।”

নাজিরহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনা কমাতে গতিবিধি নিয়ন্ত্রণসহ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। চালকদের সতর্ক করতে বিভিন্ন উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কেবল অভিযান চালিয়ে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। সড়কটি দ্রুত প্রশস্ত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণসহ স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, স্থানীয়দের দাবি যৌক্তিক, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, সড়ক প্রশস্তকরণের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?