এবার দেশের বিভিন্ন পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার চিন্তা করছে সরকার। সর্বশেষ রোববার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ৪২ জেলায় নতুন প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে বিষয়টি পরিস্কার হয়েছে। এতদিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ঈদের পরই এখানে প্রশাসক দেওয়া হতে পারে বলে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সচল রাখা এবং প্রশাসনিক শূন্যতা এড়াতে প্রশাসক নিয়োগের দিকে এগোচ্ছে বিএনপি।
প্রশাসক নিয়োগ প্রদানের বিষয়টি সামনে আসায় চট্টগ্রামের ‘ফটিকছড়ি’ ও ‘নাজিরহাট’ পৌরসভায় লোভনীয় পদটি পেতে ইতিমধ্যে দলীয় নেতারা দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। ফটিকছড়ি পৌরসভায় ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন কাঞ্চন, মো. ফরিদুল আলম চৌধুরী এবং রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর নাম শোনা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, নাজিরহাট পৌরসভায় ত্যাগী ও মার্জিত বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হামিদ চৌধুরী, দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান মো. সালামত উল্লাহ চৌধুরী, ব্যবসায়ী নেতা মো. নাছির উদ্দিন চৌধুরী ও বিএনপি নেতা মো. হাসানুল করিমের নাম লোকেমুখে।
দেশে মোট পৌরসভার সংখ্যা ৩৩০। ২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বরর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারি করে পৌরসভাগুলো ভেঙে দেয়। দেড় বছর ধরে সরকারি কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে সেবা পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নাগরিকদের। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার কাঠামোয় প্রশাসনিক গতি আনতে উদ্যোগ নিচ্ছে বিএনপি সরকার।
ইতোমধ্যে পৌরসভার প্রশাসক পদের জন্য নেতাদের জীবনবৃত্তান্ত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও দলীয়ভাবে জমা নিচ্ছেন। কেউ কেউ কৌশলে তদবির চালাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ প্রশাসক পদে বসার জন্য জেলা ও উপজেলার দায়িত্বশীল দলীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন।
ফটিকছড়ি পৌর বিএনপির নেতা ও সাবেক ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. ফরিদুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘জীবনের বেশিরভাগ সময় মাঠে ময়দানে জনগনকেই দিয়েছি। আমরা মাঠের মানুষ। ভবিষ্যতেও দিতে প্রস্তুত।’
নাজিরহাট পৌর বিএনপির নেতা মো. হাসানুল করিম বলেন, ‘দলের আদর্শ ও ত্যাগ আমার কাছে বড় অর্জন। দল যদি আমাকে মূল্যায়ন করে আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবো।’
অনেকে মনে করছে, পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলে স্থানীয় সরকার কাঠামোয় গতি আসবে। তবে এই কারণে নির্বাচনও বিলম্ব হতে পারে। এ ছাড়া অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া নিয়ে আইনি জটিলতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হচ্ছে।
লেলাং ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মো. সরোয়ার হোসেন মনে করেন, পৌরসভায় প্রশাসক দেওয়া হলে নাগরিকদের দৈনন্দিন চাহিদার সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে। সমস্যা সমাধানের জন্য প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া বাঞ্ছনীয় হবে। এ ব্যাপারে দল ও সরকারের মধ্যে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।



