১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ ১৭ এপ্রিল; ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে, বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার একটি মুক্ত এলাকায় শপথ নেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার।

স্বাধীনতা ঘোষণার পর, ১০ই এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয় । এর এক সপ্তাহ পর, ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার ভবেরপাড়ার বৈদ্যনাথতলা আম্রকাননে শপথ গ্রহণ করে ৷ শপথ গ্রহণের পাশাপাশি, লাল-সবুজের পতাকা উত্তোলন, নবগঠিত সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান-সহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি সম্পন্ন করা হয় ।

পূর্ব ঘোষণা মোতাবেক সেদিন মন্ত্রিপরিষদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয় । সকাল প্রায় ৯ টা থেকেই সেখানে নেতৃবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিদের আগমন শুরু হয় । দেশি বিদেশি প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন । বেলা ১১টার দিকে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয় । জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় এবং শুরুতেই বাংলাদেশকে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ রূপে ঘোষণা করা হয় ।

সেদিন অস্থায়ী সরকার গঠনের পর, ১৭ই এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন মনসুর আলীকে অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী, খন্দকার মোশতাক আহমদকে পররাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রী, এএইচএম কামরুজ্জামানকে স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ও কর্নেল এমএজি ওসমানীকে সেনানায়ক ঘোষণা করে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ অস্থায়ী সরকার’র (যা মুজিবনগর সরকার বা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার নামেও পরিচিত) শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় ৷ পরবর্তীতে যে সরকারকে মুজিবনগর সরকার নামে অভিহিত করা হয় ৷

স্বাধীনতার স্মৃতি এখনো ভঙ্গুর….

স্বাধীনতার স্মৃতিবিজড়িত মেহেরপুরের মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক স্মৃতিকেন্দ্র ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই একশ্রেণির উচ্ছৃঙ্খল লোকজন সেখানকার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ভাস্কর্যগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এরপর ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার দেশ চালিয়েছে টানা দেড় বছর। দুই মাস আগে নির্বাচনের পর এসেছে নতুন রাজনৈতিক সরকার। কিন্তু দেশের মুক্তিযুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ভাস্কর্যগুলো সংস্কার বা নতুন করে স্থাপন করা হয়নি আজও। দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে।
দেশ-বিদেশের অনেক দর্শনার্থী এখানে আসেন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এই গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থানটি স্বচক্ষে দেখতে। দেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সান্নিধ্য পেতে। কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের স্থাপনা না হলেও ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার স্বৈরশাসনের অবসানের দিনে মুক্তিযুদ্ধের এই স্মারকগুলো হামলার শিকার হয়। একশ্রেণির লোক হামলা চালিয়ে ভেঙে ফেলে মানচিত্রের প্রায় সব ভাস্কর্য। তখন থেকে সেভাবেই পড়ে আছে সব। দেশের আরও অনেক মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক স্থাপনা, ভাস্কর্য বা ম্যুরাল ৫ আগস্টের পর হামলার শিকার হয়। একসময় কাছের-দূরের দর্শনার্থীদের পদচারণে মুখর থাকলেও মুজিবনগর কমপ্লেক্সে এখন সুনসান নীরবতা। আয়রোজগার নেই এখানকার ব্যবসায়ীদেরও।

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?