১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পেশা থামলেও নেশা থামেনি শিশু সাহিত্যিক সৈয়দ খালেদুল আনোয়ারের

সালাহউদ্দিন জিকু

কবি ও শিশু সাহিত্যিক সৈয়দ খালেদুল আনোয়ার।

ফটিকছড়ির মাটি সবসময়ই গর্ব করে তাঁর কৃতি সন্তানদের নিয়ে। সেই গর্বেরই উজ্জ্বল এক নাম কবি ও শিশু সাহিত্যিক সৈয়দ খালেদুল আনোয়ার। যিনি পেশায় একজন ব্যাংকার হলেও হৃদয়ে ধারণ করেছেন শিশু সাহিত্যকে। উপজেলার নানুপুর গ্রামের এই কৃতি সন্তান সত্তরের দশকের শুরু থেকেই লেখালেখির মাধ্যমে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। তাঁর কলমে শিশুমনের সরলতা, কল্পনা আর আনন্দ এমনভাবে ফুটে ওঠে, যা পাঠকের হৃদয়ে স্থায়ী ছাপ ফেলে। গ্রামবাংলার মাটি, মানুষের অনুভূতি এবং শিশুর নির্মল জগত, সবকিছু মিলিয়ে তাঁর সৃষ্টিতে তৈরি হয়েছে এক অনন্য সাহিত্যভুবন।

এই দীর্ঘ সাহিত্য সাধনা ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) তাঁকে “স্বাধীনতা স্মারক সম্মাননায়” ভূষিত করেছেন। এই স্বীকৃতি কেবল একজন ব্যক্তির অর্জন নয়, বরং ফটিকছড়ির গর্ব এবং একটি জনপদের সাংস্কৃতিক সাফল্যের প্রতিচ্ছবি।

একজন ব্যাংকার হিসেবে দায়িত্বশীল পেশাগত জীবন আর অন্যদিকে সাহিত্যচর্চার প্রতি অবিচল ভালোবাসা- এই দুইয়ের সমন্বয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন অনুকরণীয়। তাঁর প্রাপ্ত সম্মাননা প্রমাণ করে, মেধা ও সাধনা কখনো অমূল্যায়িত থাকে না; একসময় তা যথাযথ স্বীকৃতি পায়ই।

দীর্ঘ কর্মজীবনের পর তিনি ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে সোনালী ব্যাংক থেকে অবসরে যান। কিন্তু অবসর তাঁর সৃজনশীলতাকে থামাতে পারেনি; বরং সাহিত্যচর্চায় তিনি আরও গভীরভাবে নিজেকে নিয়োজিত করেন।

তাঁর সৃষ্টিশীল কর্মভাণ্ডার সমৃদ্ধ ও বহুমাত্রিক। প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে- সোনারোদের হাসি, অসংগতির ছড়া, স্মৃতি আঁকা চিঠি, মনের ছবি এবং প্রীতির জামা। যা শিশুমনে আনন্দ ও কল্পনার এক অপূর্ব জগৎ নির্মাণ করেছে। পাশাপাশি মুকুর, শিশুসাথি, হাতেখড়ি, ধরবো চেপে টুঁটি ও আনন্দের ঝর্ণাধারাসহ বিভিন্ন সাহিত্যপত্র সম্পাদনার মাধ্যমে তিনি নতুন প্রজন্মের লেখকদের জন্য উন্মুক্ত করেছেন সৃজনশীলতার দুয়ার।

তাঁর সাহিত্যকর্ম ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি অর্জন করেছেন একাধিক পুরস্কার ও সম্মাননা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, কথন শিশুসাহিত্য পুরস্কার (২০১২), বাংলাদেশ শিশুসাহিত্য একাডেমি পদক (২০১৮), মঞ্জুরী সাহিত্য সম্মাননা (২০০৩), নবযাত্রা সম্মাননা (২০০৬), কুসুমকলি সম্মাননা (২০১৩) এবং সর্বশেষ বিজয় প্রজন্ম সম্মাননা (২০২৪)।

ফটিকছড়ির এই কৃতি সন্তান তাঁর সৃজনশীল কর্মের মাধ্যমে শুধু নিজেকে নয়, তাঁর জন্মভূমিকেও আলোকিত করেছেন। তাঁর এই অর্জন নিজের শেকড়কে ভালোবেসে, নিজের স্বপ্নকে ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার পথে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?