চট্টগ্রামে আবদুল জব্বার স্মৃতি বলী খেলাকে ঘিরে আবারও উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে উঠেছে লালদীঘি মাঠ। বাংলা ১২ বৈশাখ, শনিবার অনুষ্ঠিত হবে এ বলী খেলার ১১৭তম আসর।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণ করবেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।
ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজনের সূচনা করেন মরহুম আবদুল জব্বার সওদাগর। ১৯০৯ সালের ১২ বৈশাখ তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে যুবকদের শারীরিকভাবে প্রস্তুত করতে বলী খেলার প্রচলন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় শতবর্ষ পেরিয়ে আজও নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এ প্রতিযোগিতা।
বলী খেলাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বৈশাখী মেলা। প্রতিবছর তিন দিনব্যাপী মেলা হলেও এবার পাশের মুসলিম হাই স্কুলে এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র থাকায় শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় মেলার সময় দুই দিনে সীমিত রাখা হয়েছে। ২৪ ও ২৫ এপ্রিল মেলা চলবে এবং ২৬ এপ্রিল ভোরে তা শেষ করা হবে।
শত বছরের এই আয়োজনকে ঘিরে লালদীঘি ও আশপাশের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ দলবেঁধে আসছেন বলী খেলা দেখতে এবং মেলা থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে।
তীব্র গরম উপেক্ষা করেও অস্থায়ী দোকানগুলোতে ভিড় করছেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। গৃহস্থালি পণ্যের পাশাপাশি এমন অনেক সামগ্রী এখানে পাওয়া যায়, যা বছরের অন্য সময় সহজলভ্য নয়। বিশেষ করে ফুলের ঝাড় ও শলার ঝাড় কিনতে ক্রেতাদের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো।
মেলায় রয়েছে শীতল পাটি, পাটের ব্যাগ, হাতপাখা, মাটির হাঁড়ি-পাতিল, ফুলের টব, কুলা, চালনী, দা-খস্তি, কোদাল, বিভিন্ন গাছের চারা, বাঁশ-বেতের আসবাব, মাছ ধরার সরঞ্জাম, কাঠের খাট-পালংক, মাটির পুতুল, মুখোশ, বেলুনসহ নানান পণ্য।
খাদ্যপণ্যের মধ্যেও রয়েছে বৈচিত্র্য—রঙিন পিঠা, তিলের খাঁজা, চনা-বনার ট্যাং, খই, চটপটি, চিংড়ি ভাজা, লিচু, তরমুজ, আখ, বাঙ্গি, বড় শসা ও নানা রকম আচার।
সব মিলিয়ে, ঐতিহ্য আর বাণিজ্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধনে পরিণত হয়েছে জব্বারের বলী খেলা ও বৈশাখী মেলা—যা চট্টগ্রামের সংস্কৃতিকে নতুন করে জীবন্ত করে তোলে প্রতি বছর।



