২৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফটিকছড়িতে শ্লীলতাহানীর ঘটনা; চড়-থাপ্পড়ে রেহাই!

নিজস্ব প্রতিবেদক

অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মো. মারুফ (২৫)। ছবি সংগৃহিত।

ফটিকছড়িতে আট বছরের এক শিশু শ্লিলতাহানীর শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে নাজিরহাট পৌরসভার ইমামনগর গ্রামের বায়তুল করিম মাদ্রাসায়। গত বুধবারের ঘটনায় সমাজপতিরা অভিযুক্তকে বহিষ্কার এবং চড়-থাপ্পড় দিয়ে বিচার করে রেহাই দিয়েছেন বলেও অভিযোগ। পরে বিক্ষুদ্ধ লোকজন বিচারের দাবী করলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠেয় সুরার বৈঠক পর্যন্ত অপেক্ষা করতে অনুরোধ করেন।

অভিযুক্ত ওই মাদ্রাসার শিক্ষক মো. মারুফ (২৫) পৌরসভাধীন ফকিরহাট বাজারের কাছে ব’রার বাড়ির বাসিন্দা। ওই শিক্ষক বেশ কয়েকবছর ধরে শিক্ষকতার পাশাপাশি নৈতিকতা বিবর্জিত এসব অন্যায় করলেও কেউ সম্মানের কারণে মুখ খুলেননি বলে জানাগেছে।

জানাগেছে, স্থানীয় বাসিন্দা শিশুটি ওই শিক্ষকের কাছে প্রতিদিন প্রাইভেট পড়তো। সেদিন প্রাইভেটে যেতে অনীহা দেখালে মা তাকে বকাঝকা করেন। ফলশ্রুতিতে শিশুটি মাকে শিক্ষকের লালসার সবকথা অকপটে স্বীকার করে। পরে মায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয়রা বৃহস্পতিবার মাদ্রাসায় গিয়ে ক্ষোভ ও বিচার দাবী করেন। পরে মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মো. এমদাদের বসতঘরে অভিযুক্তকে নিয়ে সমাজপতিরা শালিসি বৈঠকে বসেন। সেখানে অভিযুক্ত শিক্ষক অকপটে তার দোষ স্বীকার করেন। পরে সমাজপতিরা তাকে বহিষ্কার এবং চড়-থাপ্পড় দিয়ে বিচার করে রেহাই দেন।

বৈঠকে উপস্থিত সমাজপতি মো. শরীফ বলেন, ‘উভয় পরিবারই স্থানীয়। মীমাংসার জন্য আমি ফারুক ও নুরুল হক মিলে বিচারটি করেছি। শিক্ষককে চাকুরীচ্যুত করে তাকে চড়-থাপ্পড দিয়ে রেহাই দিয়েছি।’ কেন প্রশাসনে হস্তান্তর করা হলো না? এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি এভাবে শুনিনি। পরিবার যেভাবে বলেছেন, সেভাবে আমরা বিচার করেছি।’

অভিযোগ উঠেছে এই ঘটনা সামাজপতিদের ভুমিকায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই ঘটনাটি এভাবে ধামাচাপা দেওয়া আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি বলেছেন। তাদের মতে শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনা কোনোভাবেই শালিসি চড়-থাপ্পড় দিয়ে সমাধান অসম্ভব। প্রচলিত আইনে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ফৌজদারি অপরাধে বিচারই কাম্য।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নাজিরহাট পৌর যুবদলের সভাপতি প্রিন্স ওমর ফারুক বলেন, ‘জেনেছি এটি দীর্ঘদিন ধরে চলছে। যা চরম গর্হিত ও বিচার্য্য। স্থানীয় এবং কোমলমতি শিশু-শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করেই মূলত সমাধানের চেষ্টা করেছি।’

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে শনিবার (৯ মে) সকালে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদ্রাসার পরিচালকের কাছে গেলে তিনি অনুষ্ঠেয় মাদ্রাসা সুরার বৈঠকে এ বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে অবহিত করেন।

মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মো. এমদাদ বলেন, ‘আনীত অভিযোগের বিষয়ে শুরার অনুষ্ঠেয় বৈঠকে সব ফয়সালা হবে। তিনি উক্ত বৈঠক পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করতে অনুরোধ করেন।’

চট্টগ্রামের বিজ্ঞ আইনজীবী ও শিশু-ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি আলমগীর মো. ইউনুস বলেন, ‘এটি গুরুতর অপরাধ। এতে রাষ্ট্র বাদী হয়ে মামলা করতে পারে এবং শাস্তি হবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে। এ ধরনের অপরাধ মীমাংসা করা বা শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার সালিসকারীদের নেই।’

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম খান বলেন, ‘বিষয়টি সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন। সত্য হলে এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার অভিযোগ দিলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?