যৌতুক, মাদক, জঙ্গিবাদ, ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্মিলিতভাবে ‘না’ বলার আহ্বান জানিয়েছেন আনজুমানে রজভীয়া নূরীয়া ট্রাস্টের প্রেসিডেন্ট ও আহলে সুন্নাতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী চেয়ারম্যান আল্লামা মুহাম্মদ আবুল কাশেম নূরী।
তিনি বলেন, যৌতুক দেওয়া-নেওয়া দেশের প্রচলিত আইনে একটি মারাত্মক ঘৃণ্য অপরাধ। যৌতুকের বোঝা বহন করতে না পেরে প্রতিদিন অসংখ্য দরিদ্র পরিবার চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। এ অভিশাপ থেকে সমাজকে মুক্ত করতে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুরের নারায়ণহাট বদিউল আলম চৌধুরী মেমোরিয়াল হলে অনুষ্ঠিত যৌতুক, মাদক ও ধর্ষণবিরোধী সেমিনার ও ‘আল্লামা নুরী মেধা বৃত্তি’ পুরস্কার বিতরণ এবং গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, মাদক, যৌতুক, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এসব সামাজিক ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিপিং ব্যবসায়ী ও আনজুমানে রজভীয়া নূরীয়া ট্রাস্টের আজীবন দাতা সদস্য জামাল উদ্দীন সিকদার বলেন, আল্লামা আবুল কাশেম নূরী ঈমানি ও সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে যৌতুক, মাদক, জঙ্গিবাদ ও নারী নির্যাতনবিরোধী যে আন্দোলন গড়ে তুলেছেন, তা ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। এ অবদানের জন্য তাঁকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন।
উদ্বোধকের বক্তব্যে নারায়ণহাট কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবু তাহের চৌধুরী বলেন, আল্লামা আবুল কাশেম নূরীর মতো আলেম-ওলামারা যদি যৌতুক ও মাদকের বিরুদ্ধে আরও সোচ্চার হন, তাহলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তরুণ সমাজকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করতে অভিভাবক ও সমাজের প্রবীণদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
‘আল্লামা নুরী মেধা বৃত্তি’ পরিচালনা বোর্ড ফটিকছড়ি উপজেলা (উত্তর) জোনের পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ ইফতেখার পারভেজের সভাপতিত্বে এবং শিক্ষক নেতা মাস্টার এন. আলম আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ফটিকছড়ির সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজল বারিক।
এ সময় সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ির অবসরপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। সেমিনারের প্রবন্ধ ও লিখিত ১৭ দফা কর্মসূচি উপস্থাপন করেন রজভীয়া নূরীয়া কমিটি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মিনহাজ উদ্দীন সিদ্দিকী।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও শিক্ষাঙ্গনের ব্যক্তিবর্গসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে ‘আল্লামা নুরী মেধা বৃত্তি’র পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং গুণীজনদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।



