সাইবার স্পেস বা অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাদকদ্রব্যের প্রচার, কেনাবেচা, সরবরাহ এবং আর্থিক লেনদেনের মতো অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা অনুমোদিত হয়। সংশোধিত আইনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত মাদক–সংশ্লিষ্ট অপরাধ মোকাবিলায় নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন আইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন কিংবা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করে মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্যের প্রচার, ক্রয়-বিক্রয়, সরবরাহ বা মধ্যস্থতাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
এসব অপরাধে ডিজিটাল পেমেন্ট, ই-ওয়ালেট, ক্রিপ্টোকারেন্সি বা অন্যান্য ভার্চুয়াল সম্পদের ব্যবহারও শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় আনা হয়েছে।
সংশোধিত আইনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, সাইবার মাধ্যমে সংঘটিত এসব অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে সরাসরি মাদক উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। অপরাধ প্রমাণিত হলে দোষী ব্যক্তিকে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
তবে কোনো আন্তর্জাতিক বা সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে দোষীদের যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে।
ডিজিটাল অপরাধ দমনের পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়াতে সংস্থাটিকে নিজস্ব ডগ স্কোয়াড গঠনের সুযোগ এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের আইনগত প্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাধারণ আদালতের এখতিয়ার বহাল রেখে মাদকপ্রবণ এলাকায় মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পৃথক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।
বিলটি পাসের আগে জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব উঠলেও তা নাকচ করা হয়। বিলের ওপর আলোচনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগও উঠে আসে।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদকদ্রব্যের কেনাবেচার সঙ্গে বাহিনীর কোনো সদস্য জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না; কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



