নবগঠিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তর নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত নারায়ণহাট, দাঁতমারা ও বাগানবাজার ইউনিয়নের ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
উত্তর ফটিকছড়ি সচেতন নাগরিক সমাজের পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন। নারায়ণহাট আদর্শ ডিগ্রি কলেজ ও হেয়াকো বনানী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ ক্যাম্পাসেও বিক্ষোভ করেন।

এসময় আন্দোলনকারীরা বলেন, সদ্য ঘোষিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর ভূজপুরের পরিবর্তে নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী জুজখোলা মৌজায় স্থাপন করতে হবে। উত্তরাঞ্চলের তিন ইউনিয়নের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক সেবা ও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। জনসংখ্যা, ভোটার সংখ্যা ও রাজস্ব আয়ের দিক থেকে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও এ অঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি কমাতে সহজ যোগাযোগসমৃদ্ধ স্থানে উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপন প্রয়োজন।
হেয়াকো বনানী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী নাফিজ উদ্দিন বলেন, ভূজপুরে সদর দপ্তর হলে নারায়ণহাট, দাঁতমারা ও বাগানবাজার ইউনিয়নের বাসিন্দারা কাঙ্ক্ষিত প্রশাসনিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।
বালুটিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তামজিদ উদ্দিন বলেন, ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে নয়, উত্তরাঞ্চলের মানুষের ন্যায্য প্রশাসনিক অধিকার নিশ্চিত করতেই তারা এ কর্মসূচি পালন করেছেন।

তবে শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের দাবির বিষয়ে ভিন্নমত দিয়েছেন কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা। শান্তিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল বারেক বলেন, পরীক্ষা শুরুর আগে কিছু সময় শিক্ষার্থীরা কর্মসূচিতে অংশ নিলেও পরে নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষায় অংশ নেয়। এতে শিক্ষা কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি।
একই ধরনের বক্তব্য দেন হেয়াকো বনানী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বখতিয়ার উদ্দিন বকুল। তিনি জানান, সকাল ৯টা ২০ মিনিট থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা কর্মসূচিতে অংশ নিলেও সকাল ১০টায় যথাসময়ে পরীক্ষা শুরু হয়।
ফটিকছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. সেলিম রেজা বলেন, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা শুরুর আগে প্রায় ২০ মিনিট বিক্ষোভ করেছে বলে তিনি জেনেছেন। তবে নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
উত্তর ফটিকছড়ি সচেতন নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট রাসেল আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, নবগঠিত উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার সদর দপ্তর নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।



