চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে মাদ্রাসা, আর জিপিএ-৫ অর্জনে এগিয়ে বিদ্যালয়। এ বছর উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২৪ জন। উপজেলার ৬০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে আব্দুল্লাহপুর উচ্চ বিদ্যালয়। অন্যদিকে, দাখিল পরীক্ষায় উপজেলায় পাসের হার ৬৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ৩৪টি মাদ্রাসার মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে মাদ্রাসা-এ গাউসুল আজম মাইজভান্ডারী।
তবে অন্যান্য বছরের মতো এবারও জিপিএ-৫ অর্জনে বাজিমাত করেছে ফটিকছড়ি বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। এবার এ বিদ্যালয়ের ১৮ জন ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে। বিপরীতে পাসের হারে পিছিয়ে রয়েছে উপজেলার একমাত্র সরকারি বিদ্যালয় ফটিকছড়ি সরকারি করোনেশন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। গতবারের মতো এবারও নারায়ণহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনজন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের দেওয়া ফলাফল শিট বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

এসএসসিতে পাসের হারে শীর্ষে আব্দুল্লাহপুর উচ্চ বিদ্যালয়
ফলাফল শিট অনুযায়ী, পাসের হারে বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে উপজেলার সর্বদক্ষিণের আব্দুল্লাহপুর উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয় থেকে ২৩ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ২২ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। বিদ্যালয়টির পাসের হার ৯৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ধর্মপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয় থেকে এবার ১৫২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১২৪ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে তিনজন। বিদ্যালয়টির পাসের হার ৮১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে গোপালঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয় থেকে ৭০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৫৭ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে দুজন। বিদ্যালয়টির পাসের হার ৮১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

পাসের হারের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে রয়েছে আজিমপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে জাহানারা মমতাজ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাসের হার ও জিপিএ-৫—উভয় ক্ষেত্রেই ফটিকছড়ির দক্ষিণাঞ্চলের পাঁচ ইউনিয়নের বিদ্যালয়গুলো তুলনামূলক ভালো ফল করেছে। অন্যদিকে, উপজেলা সদর ও নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার বিদ্যালয়গুলো ফলাফলে পিছিয়ে রয়েছে। তবে উত্তরাঞ্চলের মাদ্রাসাগুলো তুলনামূলক ভালো ফল করেছে।
দাখিলে পাসের হারে এগিয়ে মাদ্রাসা-এ গাউসুল আজম
উপজেলার ৩৪টি মাদ্রাসার মধ্যে দাখিল পরীক্ষায় পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে মাদ্রাসা-এ গাউসুল আজম মাইজভান্ডারী। এবার এ মাদ্রাসা থেকে ১৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১৭ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। মাদ্রাসাটির পাসের হার ৮৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে হেয়াকো রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসা। এ মাদ্রাসা থেকে ৪৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৩৯ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে তিনজন। পাসের হার ৮৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে নুর কাজী হালিমিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা। এবার এ মাদ্রাসা থেকে ৩১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৭ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮৭ দশমিক ১০ শতাংশ। তবে এ মাদ্রাসা থেকে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।
পাসের হারের দিক থেকে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার হাসনাবাদ আহসানুল উলুম আলিম মাদ্রাসা ও শান্তিরহাট মিশকাতুন্নবী দাখিল মাদ্রাসা।
এদিকে, উপজেলার মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে জিপিএ-৫ অর্জনে সেরা হয়েছে লেলাংয়ের বন্দেরাজা-এ মহিলা দাখিল মাদ্রাসা। এবার এ মাদ্রাসা থেকে ২৯ জন ছাত্রী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ২৪ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ছয়জন।

এদিকে, ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে উপজেলার অন্যতম দুই সুন্নিয়া মাদ্রাসা ফটিকছড়ি জামেউল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা ও নানুপুর মজাহারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসায়। ফটিকছড়ি সদরের প্রাচীনতম দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফটিকছড়ি জামেউল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা থেকে এবার ৯৪ জন পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৫০ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র একজন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৫৩ দশমিক ১৯ শতাংশ।
দক্ষিণ ফটিকছড়ির আরেক প্রাচীন বিদ্যাপীঠ নানুপুর মজাহারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার ফলাফলও হতাশাজনক। এ মাদ্রাসা থেকে ৭৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৪৯ জন পাস করেছে। পাসের হার ৬৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র একজন।
জিপিএ-৫-এ বাজিমাত ফটিকছড়ি বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের
এবার উপজেলার ১০টি বালিকা বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে জিপিএ-৫ অর্জনে সেরা হয়েছে ফটিকছড়ি বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। এ বিদ্যালয় থেকে এবার ২০১ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১৩৯ জন পাস করেছে। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮ জন।
পাসের হারে বালিকা বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এগিয়ে রয়েছে জাফতনগর ইউনিয়নের জাহানারা মমতাজ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এবার এ বিদ্যালয় থেকে ৫১ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৪১ জন পাস করেছে। বিদ্যালয়টির পাসের হার ৮০ দশমিক ৩৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন।
অন্যদিকে, নারায়ণহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনজন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি।
জিপিএ-৫-এ চমক ফটিকছড়ি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের
এবারও জিপিএ-৫ অর্জনে চমক দেখিয়েছে উপজেলার একমাত্র কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফটিকছড়ি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে এবার নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলে ১৬৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১২১ জন পাস করেছে। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৭৩ শতাংশ।
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. সেলিম রেজা বলেন, “গতবারের তুলনায় এবার এসএসসিতে পাসের হার বাড়েনি; পাশাপাশি জিপিএ-৫-এর সংখ্যাও কমেছে। অন্যদিকে, গতবারের তুলনায় এবার মাদ্রাসায় জিপিএ-৫-এর পাশাপাশি পাসের হারও বেড়েছে। ফটিকছড়ি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজেও জিপিএ-৫-এর সংখ্যা বেড়েছে।”



