ফটিকছড়িতে বিএনপির এককর্মীকে ‘আ. লীগ’ নেতা বানিয়ে কারাগারে পাঠানো সেই নুরুল আজম ১৬ দিন কারাভোগের পর অবশেষে মুক্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) রাতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রিয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। এর আগে ২ আগষ্ট থানা পুলিশি প্রতিবেদনে রাজনৈতিক মামলায় তাঁকে আটক করে জেলে পাঠায়। পুলিশের এমন কর্মকান্ডে উপজেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠে।
বিএনপির কর্মী থেকে আ.লীগ নেতা বানানো ব্যক্তির নাম মো. নুরুল আজম (৫৪)। তিনি ফটিকছড়ি পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের পরান চৌধুরী বাড়ীর মৃত হাজী মো. ইউনুসের ছেলে। মামলায় তাঁকে পৌর আ.লীগের কমিটির কাগজে (টেম্পারিং) কাটাঁছেড়া করে সহ- সভাপতি দেখানো হয়। প্রকৃত পক্ষে ওই কমিটিতে ৬ নং ক্রমিকের ব্যক্তি আলহাজ্ব মো. জয়নাল আবেদীন।
বিভিন্ন নথি ও এলাকাবাসী জানান, মো. নুরুল আজম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া-লেখার সময় থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন। পরে বিএনপির সদস্যপদ এবং ব্যবসায় মনোনিবেশ দিলে সর্বশেষ ২০১৭ সালে আওয়ামী লীগের নানা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা সত্বেও পৌর বিএনপির সদস্যপদ নবায়ন করেন। এলাকাবাসীর মতে, নুরুল আজম এলাকায় শিক্ষিত ও সজ্জ্বন। তাঁকে পরিকল্পিত ও রাজনৈতিকভাবে শাসাতে একটি পক্ষ সক্রিয়। কারণ তিনি উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কর্ণেল (অবঃ) আজিমুল্লাহ বাহারের অনুসারী। থানা পুলিশকে প্রভাবিত করে স্বার্থন্বেষীদের এমন গর্হিত কাজে এলাকার সবাইকে চরমভাবে নাঁড়া দিয়েছে।
সুশীল ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অন্যদলের কর্মী সাজিয়ে কিংবা পুরনো কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলে প্রেরণের ঘটনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অশনি সংকেত। এসব বিবেক বিবর্জিত ও গর্তিত। এটি অব্যাহত থাকলে রাজনীতি থেকে মেধাবী তরুণ ও সজ্জ্বনেরা দূরে সরে যাবেন।
স্থানীয়দের মতে, নুরুল আজম উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কর্ণেল (অব.) আজিমুল্লাহ বাহারের অনুসারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজিমুল্লাহ বাহারের সঙ্গে তাঁর একাধিক বিশেষ মুহুর্তের ছবি ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সরব উপস্থিতির ছবি রয়েছে। ফটিকছড়িতে বিএনপির বিবদমান দুটি পক্ষ রয়েছে। মূলত এটিই আজমের জন্য বড় বাঁধা বা কাল হতে পারে।
কারামুক্ত মো. নুরুল আজম বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের কথায় রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে আমাকে জেলে পুরে শান্তিতে থাকেন ‘ভালো কথা’। কিন্তু দীর্ঘ ১৭ বছর যে ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে লড়েছি তাদের তক্মা লাগিয়ে দিয়ে প্রমান করেছেন আপনারা কা-পুরুষ। এর দায় একদিন আপনাদের নিতেই হবে। তিনি আরোও বলেন, আমার স্ত্রী ও একমাসের শিশু সন্তানকে এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্তে নানাভাবে হয়রানী ও কষ্ট দিয়ে যে বিবেকহীনতার পরিচয় আপনারা দিয়েছেন আল্লাহ তাঁর বিচার একদিন করবেই।’
নুরুল আজমের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ভুলভাবে উপস্থাপন করে তাঁকে একটি স্পর্শকাতর মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘ ১৬ টি দিন আর ১৬ টি রাত স্বজনদের কাছ থেকে দূরে রেখে দু:সহ জীবন পার করেছি। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের মাধ্যমে প্রতিকারের দাবি জানান।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম খান বলেন, ‘মূলত একটি পরোয়ানায় তাকে আটক করা হয়। তাঁর দাবী এটি রাজনৈতিক মামলা। সবকিছু আদালতই বিবেচনা করবে। প্রতিকার চাওয়ার অধিকার তাঁর আছে।’



