চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় নিবন্ধন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বেশ কিছু কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় নিবন্ধনহীন ২৯টি বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২৬টি কিন্ডারগার্টেন।
সম্প্রতি সারাদেশের নিবন্ধনহীন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টের রুল জারির পর ফটিকছড়িতেও এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) একটি রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ দেশের ৩৩ হাজার ৬১৪টি অনিবন্ধিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।
রুলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় নিবন্ধনের আওতার বাইরে থাকা ২৬টি কিন্ডারগার্টেন ও তিনটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের আওতায় আসার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা অফিস। তবে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, সরকারি তালিকার বাইরে বিভিন্ন এলাকায় আরও কিছু কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ ও হালনাগাদ তালিকা উপজেলা প্রশাসন বা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের কাছে নেই। ফলে সরকারি হিসাবে ২৯টি প্রতিষ্ঠান থাকলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন অব ফটিকছড়ির (ক্যাফ) সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর সংগঠনের আওতাধীন কতটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তা জানতে চাওয়া হয়। তিনি পরে এ বিষয়ে মন্তব্য করবেন বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
‘দ্য রেজিস্ট্রেশন অব প্রাইভেট স্কুলস অর্ডিন্যান্স, ১৯৬২’-এর ৩ ধারায় নিবন্ধন ছাড়া বেসরকারি বিদ্যালয় পরিচালনার বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। আইন ও বিধিমালা না মেনে কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
রিটের শুনানিতে আইনজীবী মো. কাওসার হোসাইন আদালতে বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী দেশে ৩৪ হাজার ৬১২টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে নিবন্ধিত মাত্র ৯৯৮টি। বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে বলেও তিনি আদালতে উল্লেখ করেন।
ফটিকছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ইউইও) আবদুর রব বলেন, “আমার তথ্যমতে ফটিকছড়িতে ২৬টি কিন্ডারগার্টেন ও তিনটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তাদের যথাযথ নিবন্ধনের আওতায় আসার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “নিবন্ধনের বাইরে থেকে যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, “আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। যারা নিয়মনীতি মেনে কাজ করবে না, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকায় ছোট পরিসরে পরিচালিত কিছু কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রশাসনের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান চললেও এসব প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বা অনুমোদনের বিষয়টি অনেক অভিভাবকের কাছেই স্পষ্ট নয়।
অভিভাবকদের দাবি, সরকারি তালিকাভুক্ত ২৯টি প্রতিষ্ঠানের বাইরেও পুরো উপজেলায় সমন্বিত জরিপ চালিয়ে নিবন্ধনহীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা হোক। একই সঙ্গে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিবন্ধনের আওতায় আনার পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।



