উত্তর ফটিকছড়ির নেপচুন চা বাগানে সড়ক নিয়ে বিরোধ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলায় এম. এম. ইস্পাহানি লিমিটেডের মালিকানাধীন নেপচুন চা বাগানে সরকারি সড়ক ব্যবহার ও নালা খননকে কেন্দ্র করে বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভূজপুর থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দিয়েছে উভয় পক্ষ।

স্থানীয়রা জানান, বাগানের একটি সড়ক নিজেদের বলে দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ওই সড়কের পাশে বাগান কর্তৃপক্ষ নালা খননের উদ্যোগ নিলে স্থানীয়রা এর প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের পক্ষ থেকে থানায় দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে বাগান কর্তৃপক্ষের লোকজন সরকারি রাস্তা নিজেদের দাবি করে সেখানে নালা খননের চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা এতে বাধা দিলে তাঁদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে অভিযোগকারীকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি নিয়ে এগিয়ে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। পরে এ ঘটনায় মামলা করলে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বলেন, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সড়কটি বন্ধ করে দেওয়া বা এর পাশে নালা খনন করা হলে তাঁদের চলাচলে সমস্যা হবে। তাই সড়কটি সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং নালা খননের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অন্যদিকে, নেপচুন চা বাগান কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে হালদা নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বাগানের চা সেকশনের পাশে রাখছেন। এতে চা গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বালু উত্তোলন বন্ধ করতে একাধিকবার বলা হলেও তা বন্ধ হয়নি। 

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চা গাছ রক্ষায় মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে শ্রমিকদের দিয়ে একটি সেকশনে ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের কাজে বাধা দেন এবং তাঁদের হাতে থাকা কোদাল কেড়ে নেন। পরে বাগান কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বাগানের অফিস প্রাঙ্গণে শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগও করা হয়েছে। এতে কয়েকজন শ্রমিক আহত হন।

নেপচুন চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. আল মুহিত শেখ বলেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও চা গাছ রক্ষার স্বার্থে ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বালু উত্তোলনের কারণে বাগানের ক্ষতি হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বিরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহমত উল্লাহ ও ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে।

ওসি বিপুল চন্দ্র দে বলেন, ‘বাগানের একটি সড়ক নিয়ে বাগান কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ চলছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দিয়েছে। আমরা অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করছি। উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার জন্য বলা হয়েছে।’

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে কর্মসৃজন প্রকল্পের মাধ্যমে সড়কটি উন্নয়ন করা হয়।

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?