আমার দাদার নাম কামিনীকুমার বর্ধন । তাঁর দুই সংসার । চার ছেলে । বড়ো স্ত্রীর দুই ছেলে মহিম, মনোরঞ্জন, ছোটো স্ত্রীর দুই ছেলে অনিল, দুলাল । আমার বাবা মনোরঞ্জন । মহিম তাঁর বড়োভাই । বাবার ছোট বয়সে মা মারা যাওয়ায় তিনি ফেনীর কাছে আমিরাবাদ তাঁর মামাবাড়িতে মানুষ হন । বাড়ি আসতেন মাঝে মধ্যে তাঁদের বাড়বকুণ্ড বর্ধনবাড়িতে আসতেন । সমুদ্রের কাছাকাছি বাড়ি ছিল । বাবা বলতেন দইরগার কুলে । ছোটবেলায় জোয়ার জল নেমে গেলে নাকি প্রচুর মাছ পেতেন । কাটগড় বর্ধনবাড়ি বিরাট ও খুব নামকরা বাড়ি ছিল । তাঁদের নাকি একটা কাঠের বা মাটির দোতলা বাড়ি ছিল । আমার দাদার আরো ভাই ছিল হেমন্ত, বসন্ত, সতীশ বা আরো কেউ । সতীশ বর্ধন বৃটিশ আমলে শিক্ষক ছিলেন । তাঁর ছেলে ননীগোপাল কলকাতা পোর্ট কমিশনে চাকরি করতেন । যাদবপুরে বাড়ি করেন । এখন তাঁর ছেলেরা ওখানে থাকে । আমার বাবা ত্রিশের দশকে দেশের বাড়ি ছাড়েন ।
জ্যেঠামশাই দেশভাগের পর সাব্রুম চলে আসেন । আমার বাবা নানা জায়গায় চাকরি করতে করতে সাব্রুম আসেন । আমাদের জন্ম এদেশেই । সেই সুবাদে আমরাও সাব্রুম আছি । আমার দুই কাকার মধ্যে অনিল দেশভাগের আগে থেকে রেলের চাকরি নিয়ে আসামের তিনসুকিয়া বাস করতে থাকেন । তাঁর ছেলেমেয়ে ওখানেই আছে । অন্য কাকা দুলাল দেশের বাড়িতে ছিলেন । তাঁকে ছোটো বয়সে তিনসুকিয়েতে একবার মাত্র দেখেছিলাম। তিনিও বেঁচে নেই । বাংলাদেশ যুদ্ধের পর বর্ধনবাড়ির কোন হিস্যার সম্পর্কে আমার দাদা নেপাল ও সুবোধ নামে দুজন সাব্রুম হয়ে দেশের অন্যত্র চলে আসেন । তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ নেই । সুবোধ বাটানগরে আছেন । বাংলাদেশ যুদ্ধের সময় আমার এক পিসি যাঁর নাম মনসা । তাঁর দুই মন্দবুদ্ধি (যাকে আমরা আজল বলি) ছেলেকে নিয়ে সাব্রুম ছোটখিলের জ্যেঠামশাইয়ের বাড়িতে ছিলেন । সেই সময়ে ছোটকাকা দুলাল ও তাঁর পরিবার ও ঠাকুরমা অর্থাৎ আমার বাবা ও জ্যেঠামশাইয়ের সৎমাও ছিলেন । সেই ঠাকুরমা একটু খুঁড়িয়ে হাঁটতেন ।
স্বাধীনতার পর তাঁরা সবাই দেশে ফিরে যান । অন্যান্য পিসিদের সম্বন্ধে কিছুই জানি না । তবে মলিয়াইশে একজন ছিলেন । তাঁকে আটের দশকে তাঁর ছেলে শিলিগুড়িতে নিয়ে যান । যাওয়ার পথে আমাদের বাড়িতে ছিলেন । পিসতুতো ভাই সুনীল তারপর আর আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি । পিসেমশাইয়ের নাম ছিল নকুল দে । তাঁর ভাইয়ের পরিবার সম্ভবত এখনও সেখানে আছে । দেশের বাড়ি সম্বন্ধে এটুকুই জানি । দেশের বাড়িতে আমাদের কোনো সূত্র নেই । শুধু বাবার মুখে শোনা নামটা জানি । জীবনে দেখিনি । তবুও আমার পিতৃপুরুষের ভিটেমাটিটা একবার দেখার খুব ইচ্ছে। যদি রক্তের সম্পর্কিত কেউ থাকেন বা কোথায় থাকেন খোঁজ পাই তবে যোগাযোগ করার ইচ্ছে জাগে ।
আমার মামার বাড়ি ফেনী সোনাগাজী বিষ্ণুপুর । বিষ্ণুপুর কুঠি কালীবাড়ি, জুগিদিয়া কালীবাড়ি ও ফেনী জয়কালী বাড়ি তাঁদের পূর্বপুরুষের প্রতিষ্ঠিত । সোনাগাজীতে মোন্দারের দিঘি নামে একটা বড়ো দিঘি এখনও আছে । যাইনি কোনোদিন । কিছুদিন আগে ফেসবুক সূত্রে এক মামাতো ভাই এবং ছোটমাসির ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে । মামাতো ভাই এখন চট্টগ্রাম থাকে এবং এশিয়ান কোম্পানিতে চাকরি করে । মাসতুতো ভাই ফেনী থাকে ।
কবি ও লেখক: সাবরুম, দক্ষিন ত্রিপুরা, ভারত।



