ফটিকছড়ির খ্যাতিমান আইনজীবি মোহাম্মদ লোকমান-এর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সালাহউদ্দিন জিকু

আজ ফটিকছড়ি বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি, রোসাংগিরী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্রেসিডেন্ট, ভূজপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও বিশিষ্ট আইনজ্ঞ মোহাম্মদ লোকমানের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তাঁকে স্মরণ করছেন স্বজন, সহকর্মী, সাবেক শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

রোসাংগিরী ইউনিয়নের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া মোহাম্মদ লোকমান ছাত্রজীবন থেকেই বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আইন পেশার পাশাপাশি রাজনীতি, শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায়ও তাঁর ছিল গভীর আগ্রহ। বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তর পড়াশোনা ও গবেষণার কারণে ঘনিষ্ঠজনদের কাছে তিনি ছিলেন জ্ঞানী ও পাণ্ডিত্যপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।

মুক্তিযোদ্ধা আমীর কাশেম তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, প্রখ্যাত লোকমান দা আমার পরম প্রিয়ভাজন ছিলেন। ১৯৭৩ সনে লোকমান দা’র কৌশলী প্রচারনার কারনে ১৯৭৩ সালের সংসদ নির্বাচনে ফটিকছড়ি থেকে ভাষানী ন্যাপের প্রার্থী আবদুল মান্নান সাহেব (ধানের শীষ প্রতীক) আওয়ামী লীগের নুরুল আলম চৌধুরীর হাতে সামান্য ভোটে হেরে গিয়েছিলেন। আমিও একজন লোকমান দা’র ঘনিষ্ট কর্মী ছিলাম।

সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ লোকমানের বহুমাত্রিক জীবন ও কর্মের স্মৃতিচারণ করেছেন অ্যাডভোকেট উত্তম কুমার মহাজন। তিনি লিখেছেন- আমার শ্রদ্ধেয় সিনিয়র এডভোকেট লোকমান সাহেব এর মহাপ্রয়াণ দিবস। তাঁকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্বরণ করছি। 

অধ্যাপক বাসুদেব খাস্তগীর লিখেছেন, বিনম্র শ্রদ্ধা।  অসাধারণ পণ্ডিততুল্য একজন ব্যক্তিত্ব। বহুবার আমি তাঁর সান্নিধ্যে গিয়েছি। আমাদের কলেজের গণিতের অধ্যাপক শাহারিয়ার সাহেবের মামা। তাঁর সাথেও বহুবার আমি তাঁর বাসায় গিয়েছি। তাঁর স্মৃতির প্রতি আবারো শ্রদ্ধা জানাই।

ফটিকছড়ি আদালত পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন পারিবারিক স্মৃতিচারণ করে লিখেছেন, ছোটবেলা থেকেই লোকমানের সঙ্গে আমাদের পারিবারিক ঘনিষ্ঠতা ছিল। ‘তিনি ছিলেন পণ্ডিতপ্রকৃতির মানুষ। বাংলা, ইংরেজি ও উর্দু ভাষা-সংস্কৃতি, ধর্মীয় সাহিত্য এবং মার্কস, লেনিন, স্ট্যালিন ও মাও সে তুংয়ের রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে তাঁর গভীর পড়াশোনা ছিল। এক কথায় তিনি ছিলেন মহাজ্ঞানভাণ্ডার।’

মোহাম্মদ লোকমানের কন্যা শামসুন নাহার বলেন, বাবা ছিলেন সৎ, সহজ-সরল ও মানবিক মানুষ। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের প্রয়োজনে তিনি সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়াতেন। বাবাকে হারানোর বহু বছর পরও তাঁর শূন্যতা পরিবারের কাছে পূরণ হয়নি।

স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে মোহাম্মদ লোকমান শুধু একজন আইনজীবী বা রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন না; শিক্ষা, আইন, রাজনীতি ও সমাজচিন্তার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর বিচরণ ছিল। তাঁর জ্ঞান, মানবিকতা ও সহজ-সরল জীবনযাপন তাঁকে ঘনিষ্ঠজনদের স্মৃতিতে আজও জীবন্ত করে রেখেছে।

মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুম মোহাম্মদ লোকমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর সহকর্মী, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছেন এই বর্ষীয়ান আইনজ্ঞকে।

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?