ভোটের বাকি আর মাত্র পাঁচ দিন। এর মধ্যে পুরোদমে জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা। চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে নির্বাচনী মাঠে যখন পুরুষ প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি চোখে পড়ে, তখন ব্যতিক্রমী এক দৃশ্য হয়ে উঠেছেন হরিণা প্রতীকের একমাত্র নারী প্রার্থী জিন্নাত আখতার। বিরামহীন গণসংযোগ ও প্রত্যক্ষ ভোটার সাক্ষাতে তিনি তুলে ধরছেন নিজের প্রতিশ্রুতি ও ভবিষ্যৎ ভাবনা।
পথসভা, উঠান বৈঠক ও ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট প্রার্থনার পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজার ও জনসমাগমস্থলে ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি। নারী ভোটারদের পাশাপাশি তরুণদের মাঝেও তার প্রচারণা বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে শোনছেন তাদের সমস্যা, দিচ্ছেন আশ্বাস—ক্ষমতায় গেলে নারীর অধিকার, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে তাঁর অগ্রাধিকার।
জিন্নাত আখতার বলেন, “নারীরা শুধু ভোটার নয়, নেতৃত্ব দেওয়ারও যোগ্য। আমি চাই নারীরা সাহস করে সামনে এগিয়ে আসুক।” তার এই প্রত্যয়ী কণ্ঠ নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সাথে নিয়ে নির্বাচিত হলে অবহেলিত ফটিকছড়ির উন্নয়নে কাজ করতে চান তিনি। তিনি বলেন, ‘নারীদেরকেও পুরুষের মতো কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। নারীরা কারিগরি সহায়তা পেলে নারীরাও এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি।’
নাজিরহাট পৌরসভার প্রথম নারী ভোটার উম্মে হাবিবা। তিনি বলেন, ‘এদেশে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সর্বত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং নারীরা পিছিয়ে থাকার সুযোগ নাই। নারী জাগ্ররণে এসময়ে জিন্নাত আখতারে সাহসি পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই। তিনি নারী ভোটাদেও মাঝে ব্যাপক আশা জাগাচ্ছে।’
স্থানীয় ভোটারদের অনেকেই বলছেন, একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে জিন্নাত আখতারের এই নিরলস প্রচেষ্টা নির্বাচনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। শেষ পর্যন্ত জনগণের রায়ে কী আসে—সে অপেক্ষায় পুরো এলাকা।
সাধারণ ভোটারদের মতে, একজন নারী প্রার্থীর এই নিরলস প্রচারণা নির্বাচনী মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিরামহীন পরিশ্রম আর দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে চলা জিন্নাত আখতার এখন আলোচনার কেন্দ্রে—নারী নেতৃত্বের শক্ত প্রতীক হিসেবে।
চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত এ আসনে বিএনপি-জামায়াত ও সুপ্রীম পার্টিসহ প্রতিদন্ধতা করছে ৮ প্রার্থী। তাদের মধ্যে একমাত্র নারী প্রার্থী জিন্নাত আখতার। তিনি উপজেলা সমিতিরহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা ও একজন আইনজীবি।
নির্বাচন অফিস সুত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম- চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৪৫৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৯ হাজার ২৬২ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ১৯০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ জন।




