ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শেষ হয়েছে। এর পর থেকে কোনো প্রার্থী কিংবা তার পক্ষে কেউ প্রচারণা চালাতে পারবেন না।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। গত ২২ জানুয়ারি শুরু হওয়া নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম নির্বাচন আচরণবিধি অনুযায়ী ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে শেষ হয়। সে অনুযায়ী প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এদিন ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটেও অংশ নেবেন।
এদিকে ভোটের আগে ও পরে মোট ৯৬ ঘণ্টা সারাদেশে জনসভা আয়োজন বা অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে, যা চলবে ১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। এ ছাড়া ভোট গ্রহণ শুরুর সময় থেকে পরবর্তী সাড়ে ৮১ ঘণ্টা পর্যন্ত বহিরাগত ব্যক্তিদের ওই এলাকায় অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি আজ মধ্যরাত থেকে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর ৭২ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে।
চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত ফটিকছড়ি আসনে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন— বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত ও ১১-দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমীন, বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির চেয়ারম্যান ও বৃহত্তর সুন্নী জোট সমর্থিত একতারা প্রতীকের প্রার্থী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমেদ মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী জুলফিকার আলী মান্নান, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী রবিউল হাসান তানজিম, জনতার দলের কলম প্রতীকের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার গোলাম নওশের আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী হরিণ প্রতীকের জিন্নাত আখতার এবং ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী আহমদ কবির করিম।
প্রচারণার শেষ দিনে জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ নুরুল আমীনকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী আহমদ কবির করিম। সোমবার রাতে উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজেই এ ঘোষণা দেন।
এদিকে সোমবার রাতে বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। এসময় তিনি ফটিকছড়িবাসীকে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদানের আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তাঁর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়েজী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহারসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ।
অন্যদিকে, সোমবার মধ্যরাতে মাইজভান্ডার দরবার শরীফে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমেদ মাইজভান্ডারী তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।
সর্বশেষ বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী রবিউল হাসান তানজিম। মঙ্গলবার দুপুরে ধানের শীষের প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী রবিউল হাসান তানজিম এ ঘোষণা দেন। এসময় তিনি বলেন, “এখন থেকে আমি ও আমার দল গণঅধিকার পরিষদের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করব। ধানের শীষের বিজয় মানেই গণঅধিকার পরিষদের বিজয়।” এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর, গণঅধিকার পরিষদের চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সভাপতি শাহ আলমসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
ইতোমধ্যে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহীম। পাশাপাশি নির্বাচনী মাঠে শৃঙ্খলা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।



