২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংরক্ষিত নারী আসন

স্বামীর উত্তরাধিকার হতে চান ফটিকছড়ির গুম হওয়া সিরাজ চেয়ারম্যানের স্ত্রী

এস এম আক্কাছ

সুলতানা পারভীন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি মনোনীত করতে ভাবনা চলছে সরকারি দল বিএনপির। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ বায়োডাটা জমা দিতে শুরু করেছেন। আড়ালে চলছে অনেক দৌড়ঝাঁপ ও তদবির। প্রার্থীদের তালিকা নিয়ে দলের অন্দরে চলছে চুলছেড়া হিসাব-নিকাশ। বিগত বছরে জুলুম নির্যাতনের মধ্যেও দলীয় কার্যক্রম পরিচালনাকারী এবং দলের স্বার্থে গুম হওয়া নেতাদের পরিবার সংরক্ষিত আসনে এমপি নির্বাচিতদের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিক বিবেচনা করা হচ্ছে বলে গুঞ্জন চলছে। কেন্দ্রের এমন সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন নেতৃবৃন্দরা।

জানা যায়, রাজনৈতিকভাবে বিএনপি দেশের একটি বড় দল। তাই প্রত্যাশীর সংখ্যাও বেশি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও দলীয় নেতৃবৃন্দের আলোচনায় এখন পর্যন্ত অর্ধডজন নেত্রীর নাম শোনা যাচ্ছে। তবে ফটিকছড়ি থেকে কে হচ্ছেন সংরক্ষিত নারী এমপি এটি নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। তাদের নাম উল্লেখ করে নারী সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চাই লিখে ফেসবুকে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন তাদের কর্মী-সমর্থকরা।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হতে চান অনেক নেত্রী। এদের মধ্যে রয়েছেন; ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা, ফাতেমা বাদশা, মনোয়ারা বেগম মনি ও সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী, মেহেরুন নেছা নার্গিস, জান্নাতুল নাঈম রিকু। এছাড়া রয়েছেন নাজমা সাঈদ, জেবুন নেছা রুনা ও সুলতানা পারভীনও। এরা প্রত্যেকে দলের বিভিন্ন পদধারী।

এদের মধ্যে একজন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের লেলাং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল আলম সিরাজের স্ত্রী সুলতানা পারভীন রয়েছেন। শহিদুল আলম সিরাজ ছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির ত্যাগী নেতা। তিনি ব্এিনপির চলো চলে ঢাকা চলে কর্মসূচীতে গিয়ে আর ফেরেন নি। দীর্ঘদিন হলেও তার কোনো হদিস এখনো মেলেনি। ধারণা করা হচ্ছে তিনি প্রতিপক্ষের হাতে গুম হয়েছেন। তার সহধর্মিণী সুলতানা পারভীন স্বামীর পথ চেয়ে অপেক্ষায় থাকলেও এখনো ফেরেননি স্বামী শহিদুল আলম সিরাজ।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) সংসদীয় আসনের বাসিন্দাদের ভাষ্য, সাবেক সংসদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন তিনি। গত ১৭ বছর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদুল আলম সিরাজের পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছিলেন। লেলাং ইউনিয়নের সর্বসাধারণের এখন প্রত্যাশা; গুমের শিকার চেয়ারম্যানের সহধর্মিনীকে সংরক্ষিত আসনে এমপি পদে মূল্যায়ন করে আগামীর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়া।

জানতে চাইলে সুলতানা পারভীন বলেন, ‘দলের দুর্দিনে স্বামী জীবনবাজি রেখে কাজ করেছেন। দলের কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে স্বামী গুমের শিকার হয়েছেন। স্বামীকে ছাড়া একটি মানুষের জীবন কতো বিভীষিকাময় হতে পারে তা একমাত্র ভুক্তভোগীই অনুভব করতে পারেন। স্বামীর ত্যাগ মূল্যায়নে উক্ত পদে মনোনীত করা হলে আমি দলের আদর্শ ও আনুগত্যের প্রতি অবিচল থাকবো। তবে এ বিষয়ে দলের সিদ্ধান্তই তাঁর কাছে শেষ কথা।’

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?