ফটিকছড়ি পৌরসভার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র বিবিরহাট বাজারে নির্মাণাধীন সবজি মার্কেট প্রকল্পের কাজ আড়াই বছরেও শেষ হয়নি। সাড়ে ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এ প্রকল্পের মেয়াদ দুই দফা বাড়ানো হলেও এখনো কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন বাজারে আসা হাজারো ক্রেতা সমাগম।
শনিবার সরেজমিনে বিবিরহাট বাজার ঘুরে দেখা যায়, নির্মাণাধীন মার্কেটের চারপাশ টিন দিয়ে ঘেরা। নির্মাণসামগ্রী, বালু ও খোয়া এলোমেলোভাবে পড়ে থাকায় বাজারের ভেতরের চলাচলের পথ অনেকটাই সংকুচিত হয়ে গেছে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক হাটবারে ক্রেতা–বিক্রেতাদের ভিড়ে সেখানে তিল ধারণের জায়গা থাকে না।
বাজারে আসা ক্রেতা মো. আলী বলেন, এখানে স্বাভাবিকভাবে হাঁটারও উপায় নেই। নির্মাণসামগ্রীর কারণে পথ সরু হয়ে গেছে।
বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. খোরশেদ আলম বলেন, রাস্তা একটু বড় করার জন্য টিনশেডগুলো পেছনে সরানোর অনুরোধ করেছি অনেকবার। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। ব্যবসা পরিচালনা করতে খুব কষ্ট হচ্ছে।
মো. কামাল উদ্দিন নামে এক ব্যবাসয়ী জানান, মার্কেট নির্মাণের সময় পৌরসভা থেকে ৩৬ জন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর একটি তালিকা করা হয়েছিল। তালিকা অনুযায়ী মার্কেট নির্মাণ শেষ হলে সেখানে পুনর্বাসন করার কথা। এখনো কাজ শেষ না হওয়ায় খুব দুঃশ্চিন্তায় আছেন তিনি।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কুয়েত ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ২০২৩ সালে কাজ শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় দুই দফা সময় বাড়ানো হয়েছে। তবুও কাজ শেষ হয়নি।
বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেলাল উদ্দিন বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতির কারণে ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ। বহুবার কথা বললেও কাজের অগ্রগতি হতাশাজনক হওয়ায় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ শুনতে শুনতে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এ ট্রেডার্স জানায়, সময়মতো অর্থ ছাড় না পাওয়ায় কাজের গতি কমে গেলেও বর্তমানে কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
ফটিকছড়ি পৌরসভার প্রকৌশলী বিকাশ চন্দ্র দাশ বলেন, ‘অর্থ ছাড়ে জটিলতা ও মাঝপথে নকশা পরিবর্তনের কারণে কাজ শেষ করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে শিগগিরই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের কাজ বুঝিয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।’




