২৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাবা ডাকার আগেই পিতৃহারা আড়াই বছরের শিশু রিশিতা

সালাহউদ্দিন জিকু

ফটিকছড়ি উপজেলার হাজারীখিলের নলুয়াপাড়া গ্রাম এখন শোকেই স্তব্ধ। আড়াই বছর বয়সী রিশিতা ত্রিপুরা এখনও ঠিকভাবে কথা বলতে শেখেনি। আধো আধো স্বরে ‘বাবা’ ডাকটাও হয়তো পুরোপুরি মুখে আসেনি তার। এরই মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় হারাতে হলো বাবাকে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান পইন্ন্যা ত্রিপুরা (২৫)। তিনি ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের হাজারীখিল এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নলুয়াপাড়ার বাসিন্দা মন্দারাম ত্রিপুরার ছেলে। পেশায় তিনি ছিলেন রাজমিস্ত্রি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে পইন্ন্যা ত্রিপুরা ছিলেন তৃতীয়। সংসারের টানাপোড়েনের মাঝেই তিনি রাজমিস্ত্রীর কাজ শিখে নেন। প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে বাড়ি ফিরে ছোট্ট মেয়েকে কোলে নেওয়ার অপেক্ষায় থাকতেন তিনি। আর বাড়িতে অপেক্ষা করত আড়াই বছরের মেয়ে রিশিতা।

সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম–খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের পেলাগাজি দিঘী মোড় এলাকায় যাত্রীবাহী বাস চাপায় গুরুতর আহত হন পইন্ন্যা ত্রিপুরা। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

এই দুর্ঘটনায় মোট চারজনের প্রাণ গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছে তিন কিশোর- উত্তম ওরাওঁ (১৮), তপু ওরাওঁ (১৬) ও নয়ন ওরাওঁ (১৭)। স্কুল বন্ধ থাকায় তারা নাজিরহাটে পইন্ন্যা ত্রিপুরার সঙ্গে রাজমিস্ত্রীর সহকারী হিসেবে কাজ করতে গিয়েছিল। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথেই ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

পইন্ন্যা ত্রিপুরার ছোট বোন ফুলিবালা ত্রিপুরা বলেন, “ভাইটা খুব কষ্ট করে সংসার চালাত। নিজের ছোট মেয়েটাকে নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন ছিল। এখন সেই মেয়েটা বাবাহারা হয়ে গেল।”

নলুয়াপাড়া গ্রামে স্বজনদের কান্না আর প্রতিবেশীদের দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে আছে চারপাশ। ছোট্ট রিশিতা হয়তো এখনও বুঝে উঠতে পারেনি কী হারিয়েছে সে। ঘরের কোণে খেলতে খেলতে কখনো হয়তো বাবাকে খোঁজে। কিন্তু তার সেই ডাকে আর সাড়া দেবেন না পইন্ন্যা ত্রিপুরা।

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?