১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম থেকে “সংরক্ষিত নারী আসনে” আলোচনায় এগিয়ে যারা

রাজনৈতিক ডেস্ক

দীর্ঘ ১৭ বছর পর সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় সংরক্ষিত নারী আসনের বড় অংশই পেতে যাচ্ছে দলটি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সংসদে নারীদের জন্য নির্ধারিত ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে অন্তত ৩৫টি আসন বিএনপির দখলে যেতে পারে। খবর মোহনা টেলিভিশনের।

এই প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম থেকে একাধিক নারী নেত্রীর নাম আলোচনায় উঠে এসেছে। সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আয়েশা আক্তার সানজি, উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি মেহেরুন নেছা নার্গিস, দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল নাঈম রিকু, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন-এর সাবেক কাউন্সিলর জেসমিনা খানম, বেসরকারি কারা পরিদর্শক আঁখি সুলতানা, জাসাসের কেন্দ্রীয় নেত্রী নাজমা সাঈদ, ফটিকছড়ির গুম হওয়া বিএনপি নেতা শহিদুল আলম সিরাজ চেয়ারম্যানের সহধর্মিণী সুলতানা পারভীন এবং ডা. কামরুন নাহার দস্তাগীর।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, পেশাগত দক্ষতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে।

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আয়েশা আক্তার সানজি সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় রয়েছেন। দলীয় নেতারা জানান, জুলাই আন্দোলনে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’সহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি সম্মুখ সারিতে ছিলেন। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে রাজপথের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি আইনজীবী হিসেবে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতিতে কারাবন্দী ও নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের আইনি সহায়তা প্রদান করেছেন।

ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বলেন, “আমি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দল আমাকে মনোনয়ন দেয়নি। এখন দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে মেনে নেব।”

চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত আছি। ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ সময়ে একাধিক মামলার আসামি হয়েছি, পাঁচ-ছয়বার গ্রেপ্তারও হয়েছি।

বেসরকারি কারা পরিদর্শক ও বিএনপির দুঃসময়ের নির্যাতিত নেত্রী আঁখি সুলতানা বলেন, “দলের দুঃসময়ে আমরা শত নির্যাতন সহ্য করে পাশে ছিলাম। তাই দল আমাদের মূল্যায়ন করবে-এটাই প্রত্যাশা।”

এদিকে ফটিকছড়ির গুম হওয়া বিএনপি নেতা শহিদুল আলম সিরাজ চেয়ারম্যানের স্ত্রী সুলতানা পারভীনও সংরক্ষিত নারী আসনের আলোচনায় রয়েছেন। ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে সিরাজ চেয়ারম্যান গুম হন। পরে পরিবারের খোঁজখবর নেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরিবারের প্রত্যাশা, গুমের শিকার পরিবারগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে সুলতানা পারভীনকে সংরক্ষিত আসনে সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। দলে অনেক যোগ্য নেত্রী রয়েছেন, যারা মনোনয়নের আশায় সক্রিয়। সবদিক বিবেচনায় নিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন কারা সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাবেন।

এদিকে দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন চট্টগ্রাম থেকে আলোচনায় থাকা এসব নারী নেত্রী ও তাঁদের সমর্থকেরা। সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন বাড়ছে জল্পনা-কল্পনা।

সরি, কপি করা যাচ্ছে না

Scroll to Top

কি খুজছেন ?