ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর থানাধীন নারায়ণহাট ইউনিয়ন বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে করার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। একইসাথে তারা বিরোধীতাকারী হারুয়ালছড়ি ও ভুজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের কড়া সমালোচনাও করেন।
সম্প্রতি সরকার ফটিকছড়ি উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন একটি উপজেলা গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু প্রস্তাবিত এই উপজেলা সদর দপ্তর ভুজপুর মৌজায় করার একটি আবেদনের প্রতিবাদে সোচ্চার হন নারায়ণহাট ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তাদের দাবী, ভৌগোলিক দূরত্ব এবং প্রশাসনিক জটিলতা বিবেচনা না করে জনমতকে উপেক্ষা করে সরকার সিদ্ধান্ত নিলে এর দায় দুই জনপ্রনিধিনির নিতে হবে।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে উপজেলার নারায়ণহাট জমজম ক্যাফে নামক একটি রেষ্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাজনীতিবীদ ও সমাজসেবক মো. শফিউল আলম। এসময় স্থানীয় রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তিনি লিখিত বক্তব্যে মো. শফিউল আলম উল্লেখ করেন, ‘উপজেলাকে বিভক্ত পূর্বক প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা গঠন এবং সদর দপ্তরের স্থান গণশুনানীতে জনসাধারণের উত্থাপিত মতামতের আলোকে মাঠ প্রশাসনের গত ২০২৩ সালের ১১ মের প্রতিবেদনটি যথাযথ। কিন্তু সদ্য প্রস্তাবটি দুই চেয়ারম্যানের অযৌক্তি দাবীর কারণে উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষ সুফল বঞ্চিত হবেন।’
তিনি দাবী করেন, স্বাধীনতার পর থেকে উত্তরের তিন ইউনিয়নবাসীর বৃহত্তর দাবী এটি। অন্তত দুই লক্ষাধিক জনসাধারণের সেবা, সহজ বন্টন এবং এতদাঞ্চলের সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে নতুন প্রশাসনিক বিন্যাস হিসেবে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের বিষয়টি গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর প্রি-নিকার সভায় অনুমোদিত হয়। কিন্তু এরপর থেকেই কিছু স্বার্থন্বেষী মহল নিজেদের ব্যক্তি হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে প্রশাসন পাঠানো গণশুনানির প্রতিবেদন, সর্বসম্মত রেজুলেশন, সাংসদের চাহিদাপত্র গোপন করে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগনকে অন্ধকারে রেখে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে ভুল ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে ন্যায্যতা যাচাই না করে প্রস্তাবিত নতুন উপজেলার ক্যাচমেট এলাকা সর্বস্তরের সুবিধাজনক স্থানের বিপরীতে পশ্চিম ভূজপুর মৌজায় প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তর স্থাপন করার ‘কৌশলী’ অপপ্রয়াশ চালাচ্ছেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরোও বলেন, ‘পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের মদপুষ্ট সাবেক সাংসদ নজিবুল বশরের দোসর ভুজপুর ও হারুয়ালছড়ি ইউপি চেয়ারম্যানের সমন্বয়ে সিন্ডিকেট এমন অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন। এই খবর পেয়ে উত্তর ফটিকছড়ির বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়নহাট ইউনিয়নের জনসাধারণের মাঝে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
তিনি আরোও বলেন, ‘২৪ এর জুলাই বিপ্লবের আগে প্রশাসন পাঠানো প্রতিবেদন গোপন করে সম্প্রতি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে অযৌক্তিক একটি প্রতিবেদন জমা দেন। যেখানে পশ্চিম ভুজপুর মৌজার মধ্যে ‘উত্তর উপজেলা’র সদর দপ্তর স্থাপনের প্রস্তাব করেন। যেখানে বর্তমান উপজেলা সদরের দুরত্ব মাত্র ৭ কিলোমিটার তৎস্থলে দেখানো হয়েছে ১৪ কিলোমিটার। যা মিথ্যা, বানোয়ারট ও মনগড়া।’
লিখিত বক্তব্যে গণঅধিকার পরিষদের নেতা ও স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল হাসান তানজিম বলেন, ‘যে মৌজায় ‘উত্তর উপজেলা’র দপ্তর স্থাপনের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে সেটি থেকে বর্তমান সদরের দুরত্ব মাত্র ৭ কিলোমিটার। যা অযাচিত ও অযৌক্তিক। অন্যদিকে, উত্তর ফটিকছড়ির বাগান বাজারের দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার। ফলে এমনটি হলে এতাদ্বাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের আশা ও স্বপ্ন ভঙ্গের দ্বারপ্রান্তে চলে যাবে।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘প্রস্তাবে উত্তরাঞ্চলের জনগণের জন্য সরকারী সেবা সহজ প্রাপ্যতাতো দূরের কথা বরং স্থানীয় পর্যায়ে তা সৃষ্টি করবে বঞ্চনার নতুন এক ইতিহাস। যদি অপ্রত্যাশিতভাবে এরূপ কোন স্থানে উপজেলা সদর দপ্তর হয় তা স্পষ্টতই সরকারের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করবে।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মো. ইমরান খাঁন, মো. এনামুল হক, নাছির উদ্দীন চৌধুরী, আবু জাফর, নুর আবছার, মুন্সি মোহাম্মদ ইউনুস, সাহেদুল আলম চৌধুরী প্রমুখ।



