ফটিকছড়ি উপজেলায় নিরাপদ ও বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে GAP (গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেস) পদ্ধতি। আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উপজেলার কৃষকদের মধ্যে নিরাপদ সবজি উৎপাদনে আগ্রহ বাড়ছে।
উপজেলার দাঁতমারা ও বাগানবাজার ইউনিয়নে কৃষকদের সম্পৃক্ত করে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। PFS (পার্টনার ফিল্ড স্কুল)-এর মাধ্যমে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং স্থাপন করা হয়েছে একাধিক GAP প্রদর্শনী প্লট।
প্রতিটি PFS GAP গ্রুপে ২৫ জন কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, জৈব বালাই দমন, সুষম সার প্রয়োগ এবং পানি সাশ্রয়ী পদ্ধতির ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে কৃষকরা কম খরচে নিরাপদ ও মানসম্মত ফসল উৎপাদনে সক্ষম হচ্ছেন। পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যের সুষ্ঠু বাজারজাতকরণেও দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় সহায়তা।
GAP পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্য হলো—রাসায়নিকের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব উপায়ে ফসল উৎপাদন নিশ্চিত করা। এ কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের উন্নত জাতের ফসল, যেমন বিনা-২৫ ও ব্রিধান-১০০ চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার বাড়িয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত প্রদর্শনী প্লটগুলো ইতোমধ্যে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। নতুন এই প্রযুক্তির সুফল দেখে আরও অনেক কৃষক GAP পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক জানান, পার্টনার প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, GAP পদ্ধতির বিস্তারের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হবেন।




