রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে এক গোল পিছিয়ে পড়েও দারুণ প্রত্যাবর্তন করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের যোগ করা সময়ে নেপালের আত্মঘাতী গোলে নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের জয়।
ম্যাচের শুরু থেকে নিজেদের ছন্দে ছিল না বাংলাদেশ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২৩তম মিনিটে এগিয়ে যায় নেপাল। দীপা শাহির কর্নার থেকে হেডে গোল করে দলকে লিড এনে দেন গীতা রানি।
প্রথমার্ধে আরও একটি গোল হজম করার শঙ্কায় পড়েছিল বাংলাদেশ। ৩৬তম মিনিটে প্রীতি রাজের দূরপাল্লার শক্তিশালী শট গোলরক্ষক মিলি আক্তারের হাতে লেগে পোস্টে আঘাত করলে রক্ষা পায় লাল-সবুজের দল।
গোল শোধে মরিয়া বাংলাদেশ প্রথমার্ধের শেষ দিকে আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায়। এর ফলও পায় বিরতির ঠিক আগে। কর্নার কিক থেকে সরাসরি বাঁকানো শটে নেপালের জালে বল জড়িয়ে দেন ঋতুপর্ণা চাকমা। তাঁর দুর্দান্ত গোলে ১-১ সমতায় থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
বিরতির পর দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবারও বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। নেপালের রেখা গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল ফাঁকা জালের দিকে পাঠালেও তা পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
৬৯তম মিনিটে সারু লিম্বুর বাঁকানো শট অল্পের জন্য গোলপোস্টের ওপর দিয়ে চলে গেলে স্বস্তি পায় বাংলাদেশ। অন্যদিকে ৭৮তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশও। তবে সাগরিকার শট দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন নেপাল অধিনায়ক ও গোলরক্ষক সুব্বা।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছে, তখনই আসে নাটকীয় মুহূর্ত। যোগ করা সময়ে শামসুন্নাহার জুনিয়রের বাড়ানো বল ধরে এগোচ্ছিলেন সাগরিকা। তাঁর চাপে নেপালের রক্ষণভাগে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই পাঠিয়ে দেন এক নেপালি ডিফেন্ডার।
আত্মঘাতী সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে বাংলাদেশের মেয়েরা। পিটার বাটলারের শিষ্যরা এখন শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন থেকে আর মাত্র এক ধাপ দূরে।



