ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সৌদি আরব কেন্দ্রীয় কমিটির দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক ও খামিস মুশায়িত প্রাদেশিক শাখার সভাপতি আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা ফজলুল কাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
গত ৫ জুন (শুক্রবার) সৌদি আরবের স্থানীয় সময় বাদ ফজর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আমানবাজার এলাকার মরহুম বশির আহমদের জ্যেষ্ঠ পুত্র। এছাড়া তিনি ফটিকছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য ও প্রবাসী সাংবাদিক ওমর ফারুক আজাদের বড় ভাই।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান ফজলুল কাদের। দীর্ঘ ২৭ বছরের প্রবাসজীবনে তিনি একটি মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সম্প্রতি দেশে এসে দুই সন্তানের বিয়ে সম্পন্ন করে পুনরায় সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফিরে যান। কিন্তু সেখানে ফেরার মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি।
প্রয়াতের ছোট ভাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী ওমর ফারুক আজাদ জানান, গত ৪ জুন সৌদি সময় সন্ধ্যায় তার ভাইয়ের বুকে ব্যথা অনুভূত হলে বন্ধু-বান্ধব ও স্থানীয় প্রবাসীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থতা বোধ করায় রাতে তাকে বাসায় ফিরিয়ে আনা হয়।
ফজলুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সৌদি প্রবাসী আবুল মনসুর জানান, সেদিন রাতে তিনি বাসায় ফিরে কাজা নামাজ আদায় করেন এবং সবার সঙ্গে খাবার খান। ফজরের নামাজও একসঙ্গে আদায় করেন তারা। পরে নিজ কক্ষে যাওয়ার জন্য চাবি চাইলে শরীরের অবস্থার কথা বিবেচনা করে তাকে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে তিনি নিজেকে সুস্থ দাবি করে বাসা থেকে বের হন। কিছু দূর যাওয়ার পর হঠাৎ মাথা ঘুরে রাস্তায় পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।
তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন, আলেম-ওলামাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার বাড়িতে ভিড় করছেন।
প্রয়াতের বড় ছেলে মাওলানা ফয়জুল্লাহ ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সৌদি আরবেই একটি স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
হাফেজ মাওলানা ফজলুল কাদেরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমদসহ ফটিকছড়ি উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ। তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এদিকে, তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ফটিকছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ। এক শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, হাফেজ মাওলানা ফজলুল কাদের ছিলেন একজন সজ্জন, ধর্মপ্রাণ ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি। প্রবাসজীবনে থেকেও তিনি দেশ, সমাজ ও দ্বীনি খেদমতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।



