মন্দ হোক ভালো হোক, বাবা আমার বাবা, পৃথিবীতে বাবার মতো আর আছে কে-বা? ‘বাবা’ এমন একজন, যার হাত ধরে হাঁটতে শেখা, পৃথিবীর কঠিন পথে চলতে শেখা। বাবা মানে অসীম স্নেহ, ভালোবাসা ও যত্ন, যার কাছে কোন আবদারই ফেলনা নয়। বাবা মানে এমনই এক বন্ধু, এক বটবৃক্ষ, যার ছায়া তলে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও সন্তানেরা জিরোতে পারে পরম মমতায় আর পরম নিশ্চিন্তে।
মানুষটি হয়ত বড্ড রাগী। সব প্ল্যানের কথা মায়ের কানের সামনে আওড়ানো গেলেও তাঁর সামনে করতে বুক কাঁপে। কিন্তু এই মানুষটি সব বোঝেন। কারণ তিনি বাবা। এই বাবারা যখন বার্ধক্যে শক্তি শামন্ত হারিয়ে ফেলে, চোখ রাঙ্গানীর শক্তি হারিয়ে ফেলে, ধমকের কণ্ঠ হারিয়ে ফেলে, হাত কেঁপে কেঁপে শাসনের লাঠি হাত থেকে পড়ে যায়, তখন কিছু বাবা আর কোনো প্রকার করুণা পাওয়ার অধিকার রাখে না। নিষ্ঠুর পৃথিবীর কঠিন হিসাব নিকাশগুলো এমনই। যা হাজার লক্ষবার প্রদর্শিত হওয়ার পরও আমরা ধোঁকা খেয়েই চলেছি।
বাবাদের কথা উঠলেই মাথায় আসে শত ত্যাগ স্বীকার করা নিঃস্বার্থ এক মানুষের কথা। এতটুকুই কি বাবাদের পরিচয়? খেলার মাঠে ব্যথা পেলে উঠে দাঁড়ানোর সাহস দেওয়া, অসুখ-বিসুখে মাথায় হাত বুলিয়ে নিদ্রাহীন রাত কাটানো মানুষটিকে আমরা ভালোবাসা ফিরিয়ে দিতে পারি আমাদের ছোট ছোট প্রচেষ্টায়, মমতাময় আচরণে।
মা-বাবার কাছে সন্তানের যে ঋণ, তা কখনই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবু ভালোবাসার প্রতিদানে শুধুমাত্র বাবাদের জন্য রয়েছে এক বিশেষ দিন; তা হল প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার, বাবা দিবস। বাবা দিবস প্রথমবার পালিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টে, ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন প্রতিবছর বাবা দিবস পালনের রীতি চালু করেন। সেই থেকে আজ অব্দি বিশ্বের প্রতিটি অংশেই বাবা দিবস উদযাপন করা হয়। আজ বাবার দিন। বাবাদের দিবস। মাদার্স ডে নিয়ে যতটা হইচই হয় ফাদার্স ডে নিয়ে কিন্তু ততটা হয় না। বিশ্বব্যাপী উদযাপিত এই দিনটার সকল পরিকল্পনা হয় বাবাদের ঘিরে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভরে যায় বাবাদের সাথে সুন্দর সব মুহূর্তের ছবি আর গল্পে। অনেকেই কেক কাটেন, কিংবা পরিবারের সকলে মিলে খেতে যান নামী কোনো রেস্টুরেন্টে। এসবের মাঝে বাবা দিবস উদযাপনের আরেকটি বিশেষ দিক থাকে বাবার জন্য বিশেষ কোনো উপহার।
ছোটবেলা থেকে যিনি শত আবদার পূরণে আমাদের হাজারও উপহার দিয়ে আসছেন, তার জন্য উপযুক্ত উপহার খুঁজে বের করার কাজটি অনেকের জন্যই কঠিন। কখনও জামাকাপড়, কখনও তার প্রিয় বই, আর কখনও তার পছন্দের জিনিষ, সময়ের সাথে সাথে উপহারের তালিকাও ছোট হয়ে আসে। আবার কর্মব্যস্ততার মাঝে উপহার নিয়ে লম্বা প্ল্যান করার কথা খেয়াল থাকেনা অনেকেরই। পৃথিবীর সব সন্তানেরা বাবার জন্য কিছু করতে পারলে, আনন্দ পায় অনেক সেটা যদি খুব ছোট উপহারও হয়।
সন্তানদের বেড়ে ওঠার প্রতিটি দিন, প্রতিটি অধ্যায়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সেই বাবা। তাদের আদর্শে সন্তানেরা ভালো-মন্দ বুঝতে শেখে। পরবর্তীতে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখে বাবাদের শেখানো এই আদর্শ। আমাদের সব সময় সযত্নে আগলে রাখা এই মানুষটি আমাদের সবার জীবনের ‘সুপার-হিরো’, তাই তাদেরকে মুখে হাসি ফোটাতে বাবা দিবসে একটু বিশেষ চেষ্টা করা যেতেই পারে। আজকের বাবা দিবসে পৃথিবীর সকল বাবাদের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
লেখক: সম্পাদক, ফটিকছড়ি প্রতিদিন।



